13.7 C
New York
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১

ময়মনসিংহের চর নিলক্ষীয়া ইউপি’তে সাংবাদিক ও নেতাদের ম্যানেজের নামে প্রায় দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ!

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহে কর্মসৃজন প্রকল্পে দূর্নীতি ও হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে । ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নে ব্যাপক দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। উক্ত ইউনিয়নে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্হান কর্মসূচি প্রকল্পে ৫৯৪ জন শ্রমিক তালিকাতে দেখালেও, সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো ইউনিয়নে কাজ করেছেন মাত্র ২২৭ জন শ্রমিক।

বিজ্ঞাপন

সরকারী তালিকা অনুযায়ী মাঠে শ্রমিক ছিলোনা, ফলে সঠিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি! সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে ১.৫ ঘন মিটার মাটি কাটার কথা থাকলেও নাম মাত্র কাজ করে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এসব প্রকল্প।

প্রতিটি প্রকল্পে একটি করে সাইনবোর্ড ডিসপ্লে করার কথা থাকলেও কোথাও কোন সাইনবোর্ড ডিসপ্লে করা হয়নি,!

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ৫৯৪ জন শ্রমিকের নামে একাউন্ট খুলে ২২৭ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে, ৫৯৪ জনের নামে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিল উত্তলন করেছেন প্রকল্প সভাপতিরা!

যেসব শ্রমিক মাঠে কাজ করেনি সেসব শ্রমিকের নামে একাউন্ট খুলে, নাম মাত্র কিছু বকশিস দিয়ে তাদের ফিঙ্গারের চাপ নিয়ে, হাতিয়ে নেয়া হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

বিজ্ঞাপন

শ্রমিকের নামে এসব একাউন্ট খুলে, শ্রমিকদের জব কার্ড ভাগাভাগি করে নিয়েছেন কতিপয় ইউপি মেম্বার ও প্রকল্প সভাপতিরা। হরিলুট করা জব কার্ড ভাগাভাগির কথা স্বীকারও করেছেন কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি।

হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, একজন ইউপি সদস্য জানান, দূর্নীতির কৌশল হিসেবে জব কার্ড ভাগাভাগি করে নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ইউপি সচিব তিনি নিজেই নিয়েছেন ১৯ টি জব কার্ড।

অবশ্য এসব জব কার্ড ভাগাভাগির কিছু রেকর্ড ফুটেজও রয়েছে অনেক গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে!

চরনিলক্ষিয়া ইউনিয়নের চারজন মেম্বার জানিয়েছে শ্রমিকদের নামে ৩৩ টি কার্ড চেয়ারম্যনের নির্দেশে রইচউদ্দীন মেম্বার নিয়েছে।এ সকল কার্ড এর টাকা দিয়ে সাংবাদিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করার কথা ছিলো।

রইছ উদ্দিন মেম্বার টাকা কাউকে না দেয়ায় গনমাধ্যমে তা ফাঁস হয়ে গেছে।স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা বলেছেন রইছ উদ্দিন মেম্বার বিএনপি করেন।

গরীবের ৩৩ কার্ডের ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা আত্নসাৎ করেছে না তাদের দলীয় নেতাদের দিয়েছেন।সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য ও নিজে লাভবান হতেই রইছ উদ্দিন মেম্বার এমন পরিকল্পনায় হতদরিদ্রদের প্রাপ্য টাকা আত্নসাৎ করেছে।

এ ব্যাপরে রইছ উদ্দিন মেম্বার এর মুঠোফোনে জানতে চাইলে প্রথমে অস্লীল গালি দিয়ে বলেন মিথ্যা কথা, পরে মেম্বারদের কয়েক জনের নাম বললে তিনি বলেন আরে এত টাকা না যা বলেছে তার অর্ধেক হবে, আপনার সাথে সাক্ষাৎ কথা হবে ।

মেম্বারদের ভাষ্য কর্মসৃজন কাজে যা দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে তার জন্য সাংবাদিক ও স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করার জন্য ৩৩টি কার্ডের ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা নিয়েছে রইছ উদ্দিন মেম্বার ।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফারুকুল ইসলাম রতন এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি, পরে তার মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠলেও তিনি সাড়া দেননি।

স্হানীয় এলাকাবাসী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ঘটনাটি যদি প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নিতো তাহলে এমন দূর্নীতির চিত্র দেখতে হতো না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি! তবে স্হানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এসব নীরব দূর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্হা না নিলে সরকারের উন্নয়ন হবে বাধাগ্রস্ত!

আরওপড়ুনঃ ময়মনসিংহে বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করলেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান ।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ সংবাদ

x