ময়মনসিংহের পিবিআই দীর্ঘ ৩ বছর পর রহস্যের উদঘাটন ও অপহৃত ভিকটিম উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহি গত ১৩/০৫/২০১৫ খ্রিঃ বাদী আব্দুল জলিল এর পুত্র নাজমুল (২৮) এর সাথে বিবাদী মোতালেবের কন্যা নুরুন্নাহার (২৪) এর ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। বিবাহের পর হতেই নাজমুল ও নুরুন্নাহারের সংসারে বিরোধ সৃষ্টি হয়। কথায় কথায় ও সামান্য বিষয় নিয়ে নুরুন্নাহারের উপর নেমে আসত মানষিক ও শারীরিক নির্যাতন। এভাবেই অতিবাহিত হচ্ছিল নুরুন্নাহারের দিনগুলি। এরই মাঝে তাদের ঘরে একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। অত্র মামলা রুজুর কয়েক দিন পূর্বে পারিবারিক বিষয় নিয়ে নাজমুল টর্চ লাইট দিয়ে তার স্ত্রী নুরুন্নাহারের মুখে বারি দেয়। ফলে নুরুন্নাহারের মুখের সামনের একটি দাঁত ভেঙ্গে যায়। উক্ত ঘটনায় নাজমুলের শ^শুর বিবাদী মোতালেব মেয়ের বাড়ীতে আসেন এবং তার মেয়েকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে যান।

উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে বিবাদী মোতালেবের বাড়ীতে গত ২৮/০৮/২০১৭ খ্রিঃ দুপুর ১২.০০ ঘটিকার দিকে দরবার বসে। শালিসী বৈঠকের সিন্ধান্ত মোতাবেক নাজমুল তার স্ত্রী নুরুন্নাহারকে ৪ কাঠা জমি লিখে দেবে এবং তার স্ত্রীকে চিকিৎসা করে ভাল হলে বাড়ী নিয়ে যাবে মর্মে আপোষ মিমাংসা হয়। সিন্ধান্ত মোতাবেক ঐ দিনই দুপুর বেলা নাজমুল তার স্ত্রী নুরুন্নাহারকে নিয়ে মুক্তাগাছা থানাধীন তালুকদার ক্লিনিকে নিয়ে যায়। নুরুন্নাহারের সাথে তার নানা মুন্নাফ ও চাচা আজিজুলও আসে। ক্লিনিকে আসার পর নাজমুল বাহির থেকে আসছি বলে চলে যায়। সে আর ফিরে আসেনি। উক্ত ঘটনায় বাদী আব্দুুল জলিল বিজ্ঞ আদালতে তার ছেলে নাজমুলের শ^শুর বিবাদী মোতালেব, তার ছেলে মোশারফ এবং তার ভাই আজিজুল হকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মুক্তাগাছা থানার সিআর মামলা নং-৫৬৮/১৭, ধারা-৩৬৫/৩৪ দঃ বিঃ দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত হতে সিআর মামলাটির তদন্তভার থানা পুলিশের উপর অর্পণ করা হলে থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার না করেই ঘটনার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করে। বাদীর নারাজীর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত সিআর মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলাকে নির্দেশ প্রদান করে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে গত ০৮/০৭/২০২০ খ্রিঃ পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলা মামলার তদন্তভার করে।



পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলা কর্তৃক সিআর মামলাটি তদন্তকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ২৫/১০/২০২০ খ্রিঃ সকাল অনুমান ৯.০০ ঘটিকার সময় মুক্তাগাছা থানাধীন কাটবওলা বাজার এলাকা হতে ভিকটিম মোঃ নাজমুল হক (২৮) কে উদ্ধার করে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ভিকটিম বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি প্রদান করেছে। অত্র মামলার বাদী আব্দুল জলিল শালিসের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৪ কাঠা জমি বিবাদীদেরকে লিখে না দেয়ার কৌশল হিসেবে এবং বিবাদীদের হয়রানী করার হীন উদ্দেশ্যে অত্র মিথ্যা অপহরণ মামলার ঘটনা সাজায়।

আরো পড়ুন: ময়মনসিংহে চারজন বরেণ্য ব্যাক্তির স্মরণে জেলা আওয়ামী লীগের শোক সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here