ময়মনসিংহে আবাসিক পতিতারা এলাকার পরিবেশ নস্ট করছে প্রতিকার চায় নগরবাসী 

স্টাফ রিপোর্টার :

0
10

ময়মনসিংহ শহর ও শহরতলির বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অধিকাংশ আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ও আবাসিক হোটেলে নারী দেহ ও মাদক ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। অনেক অভিজাত এলাকার বাসাবাড়িতেও গড়ে উঠেছে মিনি পতিতালয়। হোটেলগুলোতে ঘণ্টা চুক্তিতে রুম ভাড়া দেয়া হচ্ছে। হোটেলের পক্ষ থেকে বোর্ডারদের কাছে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ প্রতিকার চায় নগরবাসী।

প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় এসব অনৈতিক ব্যবসা দিন দিন ব্যপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশকে অর্থ দিয়ে ম্যানেজ ও তাদের অনৈতিক কাজের সুযোগ দিয়ে মাদক ও নারী ব্যবসা চলছে অনে আবাসিক হোটেলে। নদীর ওপাড়ে রাত্রী যাপনে কোন বর্ডার নাগেলেও পতিতা নিয়ে মনোরঞ্জনের লোকের অভাব নেই। দিবারাত্র হরদম চলে দেহ ব্যবসা। এটি হোটেল হ্যারিট্যাজ নামে পরিচিত।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ময়মনসিংহে বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল আছে। এর অধিকাংশে মাদক ও নারী দেহ ব্যবসা চলে। এসব হোটেলের ম্যানেজার বা কর্মচারীদের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী এবং ওইসব দেহ ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রয়েছে।
কতিপয় অসৎ পুলিশের সঙ্গে সখ্যের কারণে সব হোটেলে অভিযান চলে না। হোটেলের লোকজন খদ্দেরদের নারী ও মাদক এনে দেয়। সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পোশাক ও বোরখা পরে নারীরা আসে। অভিজাত পরিবারের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরাও হোটেলে সময় কাটায়। খদ্দের অনুসারে প্রতি ঘণ্টা রুম ভাড়া নেয়া হয় ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। আবার সারারাত কাটালে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দিতে হয়।
নারী ব্যবসা প্রধান হোটেলগুলোতে পোষাকে সাদা পোশাকে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়। তারা এসে হোটেল থেকে বকশিশ নিয়ে যায়। কখনও কখনও তারা বাইরে থেকে নারী নিয়ে আসে। তারা রুম ভাড়া দেয় না। অনেক হোটেলের রুম মাদক সেবন ও জুয়ার জন্যও ভাড়া দেয়া হয়ে থাকে। হোটেলের লোকজন মাদকসেবীদের চাহিদা অনুসারে ফেনসিডিল, ইয়াবা, মদসহ বিভিন্ন নেশাদ্রব্য এনে দেয়।

মাঝে মাঝে পত্রিকায় লেখালেখির কারণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী ও অনৈতিক কাজে আসা নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করেও টাকার বিনিময়ে পথিমধ্যে অনেককে ছেড়ে দেয়া হয়। মাঝে মাঝে কাউকে কাউকে আদালতে নিয়ে সাজার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

ময়মনসিংহ শহরের ব্রীজ এলাকার আশামনি হোটেলের ম্যানেজার বলেন, পুলিশ প্রশাসনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় হোটেলগুলোতে নারী ও মাদক ব্যবসা চলে। মাঝে মাঝে পুলিশ খদ্দের ও নারীদের আটক করলেও হোটেলের মালিক বা ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
জানা গেছে, শহরের চরপাড়া প্রায় ১০টি হোটেলেই পতিতা ও খদ্দেরদের অবাধে আসাযাওয়া রয়েছে। এদের বেশীর ভাগই স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী। হোটেল হ্যারিট্যাজে চলে দিনভর ছাত্রছাত্রীর আনাগুনা। রাতে তারা থাকেনা।

শুধু আবাসিক হোটেল নয়, কিছু কিছু ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারেও সমানতালে চলছে দেহ ব্যবসা। এর আগে ময়মনসিংহের সুনামধন্য এক ব্যবসায়ীকে পতিতাসহ মাদক সেকন কালে আটক করেছিল জেলা গোয়েন্দা সংস্থার পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলাও হয়। মেয়েটি এশহরের চিহ্নীত দেহব্যবসায়ী। তারা ঘন ঘন বাসা বদল করে থাকে। এই মাদক ব্যবসায়ী ও দেহ ব্যবসায়ী বর্তমানে কাঠগোলা বাজারের পাশে স্বপরিবারে থাকে। অভাবগ্রস্থ বাবার সন্মতিতেই মেয়েদের চলে দেহব্যবসা। এরা যেখানেই থেকেছে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হওয়ায় লোকজন তাদের তারিয়ে দিয়েছে। এর আগে তারা মসজিদ রোডে থাকতো।

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!