Friday, January 28, 2022

ময়মনসিংহে সরকারি জমি উদ্ধারে নেই উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ময়মনসিংহ জেলা একসময় উপমহাদেশের বৃহত্তম জেলা ছিল। দেশ স্বাধীনের আগে ছিল রাজা-জমিদারদের বসবাস। ছিল নদ-নদী, খাল-বিলসহ বড় বড় বৃক্ষরাজি। কালের গর্ভে আজ বিলীন। সে সময় রাজা-জমিদারগণ তাদের জমির কিছু সম্পদ সিএস মুলে দিয়ে যায় আর বেশ বড় অংশ রেখে যায় যা বর্তমানে সরকারি কোষাগারে খাস জমি হিসেবে ১ নম্বর খতিয়ানে অর্ন্তভুক্ত রয়েছে। তৎকালীন ঐ সকল জমি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব ছিল জেলা কালেক্টরেটদের। বর্তমানে জেলা প্রশাসকদের নিয়ন্ত্রনে। এই সকল সম্পদের মধ্যে রয়েছে সরকারের বিভিন্ন সরকারি অফিস দপ্তরগুলো। পরিবেশ রক্ষার্থে ছিল বনায়ন। ছিল বিভিন্ন রাস্তার পাশে বেশ বড় বড় বৃক্ষ, খাল-বিলসহ অসংখ্য পুকুর জলাধার। যার অধিকাংশ আজ বিলীন। বিভিন্ন ব্যক্তির অসাধুতায় হারিয়ে গেছে। হতাশায় জেলাবাসী। ময়মনসিংহে সরকারি জমি উদ্ধারে নেই উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী।

নগরীতে বেশ অনেকগুলো জলাধার ছিল সেগুলো আজ নেই। নগরীর আমলা পাড়ায় শেরপুকুর আজ নেই। যেখানে একসময় হিন্দুধর্মাবলম্বীরা প্রতিমা বিসর্জন দিত। তা আজ ভাগাড়ে ও এক প্রভাবশালীর দখলে। নগরীর ধোপাদিঘী ক্ষেত জায়গাটি আজ নেই, মাটি ভরে হারিয়ে গেছে দীঘিটি। সিকেঘোষ রোডে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের পিছনে ছিল এক বড় জলাধার-পুকুর, সেখানেও বিভিন্ন পূজোঁর আয়োজন হতো। আজ তা নেই। সে পুকুরটিতো নেই, সেখানেও দখলের মহোৎসবে মেতেছে অসাধু ব্যক্তিরা। নির্মাণ সামগ্রী ফেলে এক জীবন্ত ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে জায়গাটি। মুক্তাগাছার জলমহাল সরকার লীজ দিলেও লীজকৃতদের আজও বুঝিয়ে দেয়নি। উচ্চ আদালত নদী দখলদার হতে মুক্ত করার আদেশ দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে একটি সাপ্তাহিকে সরকারের ১/১ খতিয়ানে ভূমি আত্মসাত শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়, যা ময়মনসিংহ নগরীর বাউন্ডারী রোডে দাগ নং দিয়ে আর দলিল হয় নান্দাইল সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে। যেখানে ভূমিটির অবস্থান নগরীর মদনবাবু রোডে ১/১ খাস খতিয়ান অর্ন্তভুক্ত। এমন তেলেসমাতি ঘটনা ঘটলেও ভ্রুক্ষেপ নেই সরকার বা জেলা প্রশাসকের। সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে এ প্রতিবেদককে সকল তথ্য প্রমানাদিসহ তার দপ্তরে আসতে বলেন। পরদিন প্রতিবেদক তাঁর সকল তথ্য প্রমানসহ উপস্থিত হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবেদককে বলেন, সরকারি জমি উদ্ধার হলে আপনার লাভ কি? প্রতিবেদক অনেকটা বিব্রত হয়ে প্রতোত্তরে বলেন, সরকারি জমি উদ্ধার হলে রাষ্ট্রের লাভ। আর রাষ্ট্রের লাভ মানেই জনগণের লাভ বা দেশের লাভ। পরে তিনি তাঁর কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কান্তি বসাক ও নায়েব সামছুল হককে ডাকেন। প্রতিবেদকের সামনে সংবাদের সত্যতা স্বীকার করেন ঐ দুইজন কর্মকর্তা। এক পর্যায়ে ঐ নায়েব বলেই বসলেন, জমিটি তিনবার দখলে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু উপর মহলের চাপে চলে আসতে হয়েছে।
তখন জেলা প্রশাসক পনের দিনের মধ্যে এ ভুমি উদ্ধারের নির্দেশ দেন। আঁেজা সেই পনের দিন শেষ হয়নি, উদ্ধার হয়নি সেই জমিটুকু। এর দু’মাস পরে ময়মনসিংহ জেলা ১ম যুগ্ম জজ আদালতে ১৯৭/২০ অন্য প্রকার মোকদ্দমায় ৪৬ হাজার টাকার কোর্ট ফি দিয়ে সরকার বাদি হয়ে মামলা করেন। এরপরও কোন সুরাহা হয়নি জমিটির। পরবর্তীতে জমিটিতে দোতলা নির্মাণ হয়েছে।
এর মধ্যে গত ১৩ ডিসেম্বর নগরীর কাশর মৌজায় স্টেডিয়াম গেইটের সন্মুখে ১১৮ জেল রোডে আরওআর ১২৬ দাগের একটি জমি ককটেল-পেট্রোল বোমা ফাটিয়ে, হোটেলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে দিনে-দুপুরে ভূমি দস্যুরা সরকারি সাইনর্বোড সরিয়ে বায়না দলিল মুলে দখল করে নেয়। সেখানে থাকা সরকারি গাছগুলোও ভূমি দস্যুরা কেটে নিয়ে যায়। সেখানেও কোন দৃষ্টি নেই জেলা প্রশাসকের। জেলা প্রশাসকের তদারকি ও নজরদারি থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না। স্থানীয় অনেকের ধারনা এতে কি জেলা প্রশাসককে ধুম্রজাল রেখে কাজগুলো করেছে অসাধু মহল। দিনে-দুপুরে এমন ঘটনায় সরকারি জরুরী সেবা (৯৯৯) কল দিয়েও কোন ফল হয়নি। জমির সকল দলিল পত্রাদি পর্যালোচনায় জানা যায়, এটিও ভূয়া সৃজনকৃত দলিল দিয়ে জমি দখলে নেয় অসাধু ব্যক্তিরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমি ব্যক্তি কিভাবে দখল করে। এভাবে চলতে থাকলে ময়মনসিংহ জেলায় সরকারি জমি আর পাওয়া যাবে না। সব জমি চলে যাবে ভূমি দস্যুদের দখলে, সরকার হারাবে রাজস্ব। দেশ পরিনত হবে মগের মুল্লুকে।
আর যেনো কোন জায়গায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। আর কোন সরকারি জমিতে ককটেল ও পেট্রোল বোমা ফাটিয়ে দখল করতে না দেখে নগরবাসি। জেলা প্রশাসক বা সরকারের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা যেন থাকে অবিচল। সরকারের ভাবমুর্তি অক্ষুন্ন রাখতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। উদ্ধারকল্পে প্রতিবাদের মুখ যেন বন্ধ না হয়। কোন অদৃশ্য ইশারায় যেন মুখ থুবড়ে না পরে সরকারি জমি উদ্ধারে। কোন উপর মহলের ইশারায় যেন থেমে না যায় বর্তমান সরকারে মহৎ উদ্দেশ্য রূপকল্প। স্বাধীন বাংলার রূপকার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী মহানায়ক জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুরদর্শিতার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন জননেত্রী সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিছু ব্যক্তি বিশেষের অনৈতিক স্বার্থে তা যেন ম্লান হয়ে না যায়।
এই সকল সম্পদ যাতে বেহাত না হয় সেজন্য সরকার বা রাষ্ট্র যাদের দায়িত্ব দিয়েছেন তারা ভুলে গেছেন তাদের উপর ন্যস্থ দায়িত্বটুকু। একটু নজরদারি ও কঠোরতাই পারে এ সকল সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং পুনরুদ্ধার করতে ময়মনসিংহে সরকারি জমি উদ্ধারে নেই উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী মনে করছে স্হানীয় অধিবাসী।

এই জাতীয় আরও সংবাদ
- Advertisment -

সর্বশেষ সংবাদ