ময়মনসিংহ ড্রেনের ঢাকনা বিহীন ভোগান্তি প্রতিকার চায় নগরবাসী

নীহার রঞ্জন কুন্ডু :

0
1

প্রাচীনতম একটি জেলা ময়মনসিংহ। পৌরসভা থেকে ৮ম বিভাগীয় শহরের সিটি কর্পোরেশন। সিটি কর্পোরেশন এখন বিভাগীয় নগর হয়েছে। তার মাঝে কেটে গেল অনেকগুলো বছর। বাজেটও হচ্ছে প্রতি বছর, কখনো তিনশ কোটি কখনো প্রায় পাঁচশ কোটি। এসেছে বিভিন্ন দেশী-বিদেশী সংস্থা’র দেয়া অনুদানের টাকা। প্রধানমন্ত্রীও হাজার-হাজার কোটি টাকা বিভাগ হওয়ার পর থেকে দিয়ে যাচ্ছেন। এখন নগরবাসী উন্নয়নের ছোঁয়া পেতে শুরু করেছেন। জনমনে প্রশ্ন মহানগরে কি উন্নয়ন হয়েছে?

ময়মনসিংহবাসী’র ভোগান্তীতে প্রতিদিনই পরতে হচ্ছে। যার কোন শেষ নেই। যানজট ময়মনসিংহবাসীর এখন নিত্য সঙ্গী। পায়ে হাটা পথগুলো হয়েছে মরন ফাঁদ। ফুটপাত দিয়ে হাটবেন, সেটাও দখলে চলে গেছে দোকানদার সহ বিভিন্ন মহলের। ফুটপাত উচ্ছেদ এর অভিযান চলছে নিয়মিত। সরু বা মহল্লার রাস্তা গুলো ভাঙ্গা নয়তো ম্যানহোলের ঢাকনা নেই কিংবা স্থানে স্থানে ফুটপাতের স্লাম নেই। এর সাথে নতুন যোগ হয়েছে বিশাল পোষ্টার-ব্যানার আর রশি টানাটানি। হাটতে গেলে মাথায় ও শরীলে লেগে যায়।

ভুক্তভোগীরা বলেন, অনেক সময় তাদের কাপড়ও ছিঁড়ে যায়। তারে’র ঝামেলাতো বেড়েই যাচ্ছে মাকরসার জালের মত আকড়ে রেখেছে নগরবাসীকে। যত্রতত্র ছিঁড়ে পড়ে থাকে বিভিন্ন তার। এগুলোতে জড়িয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পথচারী আহত হয়। কোন খেয়াল নেই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের। অথচ উন্নয়নের জোয়ার বইছে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ও লোকাল অখ্যাত কিছু খবরের কাগজে। নগর পিতা ঘর থেকে বের হলেই সাংবাদিকদের ফটো তোলার হিড়িক পড়ে যায়। ওদের চোখে নাগরিক দূর্ভোগ কোন ব্যাপারই নয়!
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মূল সড়ক সহ অলিগলিতে ঘুড়ে দেখা যায়, বেশ কিছু ড্রেনের ম্যানহোল এর ডাকনা নেই। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এর কি জবাব দিবেন নগরবাসীকে? ডিআইজি ও জেলা প্রশাসক এর অফিসের সামনে ফুটপাতের ম্যানহোলের ডাকনা নেই দীর্ঘদিন যাবত। ঠিকাদার কি এগুলো লাগিয়েছিল, না চুরি হয়ে গেছে?

জানা যায়, ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন নগরবাসী ম্যানহোলে পড়ে গিয়ে হাত-পা ভেঙ্গেছে। ফেঁটেছে অনেকের মাথা। নগরবাসী জানান, ঘর থেকে পা বাড়ালেই উন্নয়নের সুফল পাচ্ছি। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় বা বাসাবাড়িতে জমে পানি, হয়ে যায় কর্দমাক্ত যদিও ড্রেনেজ কাজে আগের চেয়েও কিছুটা সুফল পাওয়া যাচ্ছে। নগরবাসী আরো জানান, জানযটের কথা কি বলবো? সিটি কর্পোরেশন অতিরিক্ত মটর চালিত অটো রিক্সার লাইসেন্স দেওয়ায় যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন নগরবাসী জানান, বাঘমারা থেকে এসকে হাসপাতাল যেতে কখনো ঘন্টাও পেরিয়ে যায়। এ হলো আমাদের দৈনদশা।
এব্যাপারে নগরবাসীর দাবী মেয়র দ্রুত সমস্যা গুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।