13.7 C
New York
বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১

ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব এবং ইওর অনার মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল

দুর্জয় বাংলা ডেক্স :

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব এর ইতিহাস বর্ণাঢ্য শীতের রোদ পোহানো স্নিগ্ধ সকালের মতো। ময়মনসিংহের অতীত ইতিহাস যেমন ঝলমলে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের পথচলাও তেমনি ঝকঝকে-তকতকে।

বিজ্ঞাপন

এটা ভাবার অবকাশ নেই যে, ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবটি নিয়ে আমি ভাবি না অথবা ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবকে নিয়ে আমি কোন স্বপ্নই দেখিনা।

আমি প্রেসক্লাবটিকে দেখে দেখেই সাবালক হয়ে মধ্য গগন পার করতে চলেছি। আমি দেখেছি একটি টিনের ঘর থেকে কেমন করে আজ প্রেসক্লাবটি ত্রিতল ভবনে উর্ত্তীর্ণ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আমি দেখেছি সেই টিনের ঘরে কতোনা বরেণ্য ব্যাক্তিদের আসাযাওয়া । আমি দেখেছি এক দুই তিন করে কতোনা সাংবাদিকেরা উত্থান হয়েছে প্রেসক্লাব থেকে।

আমি এও দেখেছি বাংলার রাজনীতির কিংবদন্তি সৈয়দ নজরুল ইসলাম সৈয়দ আব্দুস সুলতান আমার পিতা শামস উদদীন মল্লিক কেমন করে তর্জনী ধরে ধরে প্রেসক্লাবে সময় অসময়ে চলে যেতেন। আর জম্পেশ আড্ডা মেরে যেতেন খ্যাতনামা সাংবাদিক সাহিত্যিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সাথে। এগুলো আমাকে ছায়ার মতো আজও তাড়িত করে ফেরে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু আমি দেখেনি আকস্মিক প্রেসক্লাবটির ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই আমার দেখা প্রেসক্লাবখানা ইউ প্যাটার্নে হাটতে শুরু করবে। আমি দেখেনি প্রেসক্লাবটির রকমফের দেখে মামলা মোকদ্দমা হবে।

আমি দেখেনি ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব যারা এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি প্রতিনিধিত্বশীল গুরুদায়িত্ব নিয়ে তাদের মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণতা অর্জনের সফলতা দেখিয়ে চলেছেন তারা খুব একটা স্হূল মামলা করে প্রেসক্লাবকে অস্হিরতার দিকে নিয়ে যাবে। এতে আমি কষ্ট পেয়েছি অবশ্য আমার কষ্টে কার কী এসে যায়।

তবে আমার ধারনা প্রেসক্লাবের ইমাজিনটা ছিলো পুরোটাই হাই- হ্যালোর মধ্যেই সমাপ্তি। এটা কোন ইস্যুই ছিলোনা। এটা আমার মনে হয়েছে বালক সুলভ মানঅভিমান – কাইজ্যাফ্যাসাদ।

ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মহোদয়। অবশ্য পদাধিকার বলে। এব্যাপারে আমি কিছু বলবো না কারন একজন জেলা প্রশাসক এমনি এমনি জেলাপ্রশাসক হোন না ।

তার আছে বিশাল একটা যোগ্যতা। তিনি যোগ্যতার মহীরুহ । আমি কেন প্রেসক্লাব নিয়ে লেখলাম বা লিখতে গেলাম এটা নিয়ে আমার অনুজপ্রতীম বন্ধুরা কিছু মনে করবেন না। আমার বন্ধু মহলে একটা চাউড় আছে – আমিকারও ধারেও নাই পাছেও নাই —————–

তবে আমার দাদা- বন্ধু মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল যখন দিন কয়েক আগে প্রেস ক্লাব এবং প্রেস ক্লাব সভাপতি সংক্রান্ত বিষয়ে মুখ খুললেন তখন আমার মাঝে ইতিউতি শুরু হলো।

লেখার একটা টার্নিং পয়েন্ট পেয়ে গেলাম। মোয়াজ্জেম একটি প্রেসের সভায় প্রেস ক্লাব এবং এর সভাপতিকে নিয়ে আলোচনার ঝাপি খুললেন। দেখলাম তৃণমুল সাংবাদিকেরা বেশ উম্ পেয়ে গেলেন। তারা মোয়াজ্জেমকে গরম অভিনন্দন জানাতে লাগলেন এবং মোয়াজ্জেমকে নেতার আসনেই বসিয়ে ফেললেন। ব্যপারটা আমার কাছে বেশ রোমান্চিত মনে হতে লাগলো।

মোয়াজ্জেম আমার কেমন বন্ধু কেমন দাদা এটা জানতে হলে আমাকে চলে যেতে হবে যখন ময়মনসিংহ শহরে সত্তুর দশকের শেষভাগ চলছিলো তখন তিনি মোয়াজ্জেম হোসেন। মোয়াজ্জেম তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের একজন কর্মী।
ডেডিকেটেড পরিশ্রমী দূর্দান্ত সাহসী ধৈর্যশীল এবং রাজনৈতিক পান্ডিত্যে অবগাহনে ভরপুর।

আমি তখন মোয়াজ্জেমকে নিয়ে ফিল্ম সোসাইটি চিপাচস করি। চিপাচসের মূলমন্ত্র ছিলো বেটার ফিল্ম প্রোডাক্টিভিটি আর মোয়াজ্জেমেরও ধ্যানধারনায় ছিলো ছাত্রলীগকে আদর্শভিত্তিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা। সুতরাং দুজনের মত ও পথের আদর্শ ছিল একটাই। মোয়াজ্জেম বহুবার আমাকে রাজনীতিতে আসার আসার আমন্ত্রন জানিয়েছে। বলেছে, দাদা প্লীজ রাজনীতিতে এসে পড়ো। তোমাকে খুব প্রয়োজন।

এখান থেকেই বন্ধু প্লাস দাদা হয়ে গেলাম। মোয়াজ্জেমের হয়তো মনে থাকার কথা একদিন প্রত্যুষে দুই দাদা বন্ধু মিলে ঢাকায় গেলাম। শেখ সেলিম তখন বাংলার বাণীর সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জাহাঙ্গীর কবির নানক সহকারী সম্পাদক। মোয়াজ্জেম চলে গেলো তাদের কাছে আর আমি চলে এলাম পাশেই সিনেমা পত্রিকা অফিসে।।

শেখ সেলিমের ছোট ভাই শেখ মারুফ সিনেমা সম্পাদক। এভাবেই বহু কর্মকাড ঘটাতে ঘটাতে ময়মনসিংহের রাজপথের লড়াকু সেনানায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল আজ ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের আস্হাশীল সাধারন সম্পাদক আর আমি সংস্কৃতি সিনেমা নাটক নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। হয়তো আমাদের দাদাবন্ধুর সাথে ইদানীং দেখা যোগাযোগ কম হয় কিন্তু আত্বিক যোগাযোগ শতভাগ রয়েছে।

মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল যখন প্রেসক্লাব বিষয়ক একটা দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দিচ্ছে তখন তার সাথে আমারও শরীক হওয়া একান্ত উচিৎ বলে আমি মমে করি।

তাই ফেসবুকের কাছেই আত্নসমর্পিত হলেম। মোয়াজ্জেম এর কাছ থেকে প্রেসক্লাব এবং প্রেসক্লাব সভাপতি সংক্রান্ত যে বক্তব্য উঠে এসেছে সেটা নিয়ে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের বর্তমান কমিটি ভেবে দেখতে পারেন।

ইওর অনার শব্দটা মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল এর আগে সম্বোধন করা হয়েছে এজন্যেই যে, তিমি একটি সন্মাণীয় পদবী অলংকৃত করে আছেন সুতরাং একজন সাংবাদিক হিসেবে তাকে তো প্রাপ্য মর্যাদা ও সন্মান আমাকে দিতেই হবে। সবাই ভালো থাকুন।

লেখক : নিজাম মল্লিক নিজু সাংবাদিক,  সাহিত্যিক

 

আরও পড়ুনঃ নেত্রকোনায় নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী বিতরণ

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ সংবাদ

x
error: Content is protected !!