রিক্সা চালক-ঘটক বেশে চাঞ্চল্যকর সব মামলার আসামি গ্রেফতার!

গৌরীপুরে বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্টিত

0
115

একজন থানা কর্তৃপক্ষ যদি হয়ে যান ঘটক আর শুরু করেন ঘটকালি তবে বিষয়টি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। শুধুই কি ঘটক? কখনো রিক্সা চালকও বটে! সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রূপ পাল্টে নিজের বহুমাত্রিক চরিত্রই ফুটিয়ে তুলেছেন অফিসার ইন-চার্জ বোরহান উদ্দিন খান।
অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি, এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) তথা বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবার ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার অফিসার ইন-চার্জ। কঠোর পেশাদারিত্ব আর নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই অপরাধী ধরতে মূলত নিজের রূপ পাল্টে নেন বোরহান উদ্দিন খান। এভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ নিয়ে গ্রেফতার করে চলছেন মাদক, জুয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন হত্যা মামলার পলাতক আসামি।

চলতি মাসে ঘটক এবং রিক্সা চালক সেজে সন্ধান বের করে গ্রেফতার করেছেন দীর্ঘদিনের পলাতক বিভিন্ন মামলার একাধিক আসামি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিনগত রাতেও গ্রেফতার করেছেন গৌরীপুরের তিন বছর পূর্বের চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলার আসামি। হত্যায় অভিযুক্ত গ্রেফতার হলো- গৌরীপুর স্টেশন রুটের কনু মিয়ার ছেলে মাদকসেবি মো. সাজন (২৪)।
এনএনবি বাংলাকে অফিসার ইন-চার্জ বোরহান উদ্দিন খান এনএনবি বাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট, উপজেলার পশ্চিম ভালুকা থেকে নিখোঁজ হয় রাসেল মিয়া নামে এক যুবক। পরে ৫ আগস্ট, উত্তর বাজার এলাকার তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে সেই যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় রাসেলের বাবা ইদ্রিস আলী একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাজন, টগর ও জনিকে আসামি করা হয়। পরে পলাতক ছিলেন সাজন। দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে থাকা সাজনকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হন ওসি বোরহান উদ্দিন খান। গ্রেফতারের খবরে মামলার বাদিসহ এলাকাবাসী ব্যাপক আনন্দিত হয়েছেন।



এছাড়াও বোরহান উদ্দিন খান সম্প্রতি সময়ে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ চেষ্টা ও ধর্ষণ পৃথক পাঁচটি অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচজনকেই গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে ছিলো স্কুলছাত্রী, গার্মেন্টস কর্মী ও গৃহবধূ। অতীতের ন্যায় কর্ম স্পৃহা আর জনসেবামূলক কাজে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে নিজ ডিপার্টমেন্টে বারবার নির্বাচিত হচ্ছেন তিনি শ্রেষ্ঠ অফিসার। ময়মনসিংহ রেঞ্জের আওতাধীন নেত্রকোনা মডেল থানা এবং বর্তমান কর্মস্থল গৌরীপুর থানা। দুই থানাতেই সুনামের সাথে কাজ করে ঊর্ধ্বতনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাতিয়ে নিয়েছেন ডজনখানেক পুরষ্কার ও সনদ। কর্মদক্ষতায় ১২ বার শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

করোনাকালের শুরু থেকে মানবিক কর্যক্রম পরিচালনা করে সর্ব মহলে নতুন করে নিজেকে মেলে ধরতে সফল হয়েছেন বোরহান উদ্দিন খান। আপদকালীন এ সময়ে কর্মহীন বেকার হয়ে পড়া মানুষের দ্বারেদ্বারে ছুটেছেন সহযোগিতার হাত নিয়ে। এতে করে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত হয়েছে যেমন ঠিক তেমনি অসহায় মানুষের মুখে ফুটেছে হাসি।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, হেডকোয়ার্টারসের নির্দেশনা মেনে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর গৌরীপুর থানা সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পুলিশ সদস্য। কুইক রেসপন্স নীতিতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। সেবা নিয়ে আপত্তি জানানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ৯৯৯ ছাড়াও যেকোনো সমস্যায় মানুষের ডাকে ছুটে যাচ্ছে পুলিশ।



গৌরীপুরে বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্টিত

সারা দেশের ন্যায় ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) উপজেলা সদরসহ ১০ টি ইউনিয়নে ধর্ষন – নিপীড়ন,নারী নির্যাতন,নেশা,বকাটেপনা,বাল্য বিবাহ রোধ কল্পে সচেতন মূলক বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

গৌরীপুর পৌর শহরে বাসস্ট্যান্ডে থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ন আহবায়ক বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাঃ হেলাল উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেয়র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালমা আক্তার রুবি, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আহসান উল্লাহ, পৌর কাউন্সিলর অাতাউর রহমান আতা, নূরুল ইসলাম, শিউলি চৌধুরী, দিলোয়ারা বেগম, সতিশা পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদা ইয়াসমিন প্রমূখ।উপস্থিত ছিলেন এস আই নজরুল ইসলাম, এস আই নাইমূল ইসলাম।



১ মইলা কান্দা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামানে সভাপতিত্বে এস আই এমদাদুল হকের সঞ্চালনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ২ নং গৌরীপুর সদর ইউনিয়নে শালীহর হাজী অামির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে চেয়ারম্যান অানোয়ার হোসেনের সভাপতিত্ব ও এস আই সোলায়মানের সঞ্চালনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।৩ নং অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম অন্তরের সভাপতিত্বে ওএস অাই উজ্জ্বল মিয়ার সঞ্চালনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।৪ নং মাওহা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে ও এস আই মাইনূল রেজার সঞ্চালনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ৫ নং সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান অাঃ মান্নানের সভাপতিত্ব ও এস আই সামছুল হকের সঞ্চালনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।৬ নং বোকাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান হাবিবউল্লাহ হাবিবের সভাপতিত্ব ও এ এস আই মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ৭ নং রামগোপাল পুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান অাব্দুল্লাহ আল আমিন জনির সভাপতিত্ব ও এ আাই জামাল হোসেনের সঞ্চালনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।৮ নং ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্ব ও এস আই বাসারের সঞ্চালনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ৯ নং ভাংনামারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান মফিজুর নূর খোকার সভাপতিত্বে ও এস আই মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন এ এস আই কামরুল হাসান। ১০ নং সিধলা ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মাষ্টারের সভাপতিত্বে ও ওসি তদন্ত কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এ এস আই নাইমূল হাসানসহ এলাকা সর্ব স্থরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন>কলমাকান্দা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আপনার মতামত লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here