রোকসানা সুখী'র ছোট গল্প 'রোবটের ছোঁয়া - durjoy bangla | দুর্জয় বাংলা

শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন




রোকসানা সুখী’র ছোট গল্প ‘রোবটের ছোঁয়া

রোকসানা সুখী’র ছোট গল্প ‘রোবটের ছোঁয়া

রোকসানা সুখী_durjoybangla.com




রোবটের ছোঁয়া
রোকসানা সুখী

একঝাঁক পাখি এলোমেলো অস্থিরতায় উড়ছে নদীর বুকে। যেনো সবাই আজ বসন্তের মেলায় দিশেহারা, কেনাকাটার ব্যস্ততায় মেতে। আমি অবাক দৃষ্টিতে, মাঝে মাঝে মিষ্টি বাতাসে নিজচুলে হাত বুলাতে লাগলাম আনমনে। শাড়ির আঁচলটাও আজ বড্ড বেসামাল। পাগলাটে ভাবে দোল খাচ্ছে বাতাসের বুকে।




হঠাৎ শো-শো বিকট আওয়াজে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়া। সবাই যে যার মতো ছুটছে নিজ গন্তব্যে। আমিও ছুটছি, ছুটতে গিয়ে ৫ইঞ্চ জুতোর হিলটা হঠাৎ পাথরে আটকে আমি ধপাস্ করে পরে গেলাম মাটির বুকে। ঠিক ল্যাঙ খেয়ে পড়ার মতো। রেগে ব্রু কুঁচকে মুখখানি খানিকটা আৎকে উঠলাম অনাকাঙ্ক্ষিত একজোড়া হাতের উপস্থিতিতে, বাবড়ি দোলা এক যুবক হাত বাড়িয়ে আছে কর্কট দৃষ্টিতে। খানিকটা ভয়ও পেলাম। জীবনে প্রথম কেউ হাত বাড়ালো,
ভীতু লাজে ধীরে ধীরে হাতটা বাড়াতেই, কিছু বুঝে উঠার আগেই.. যেনো কারেন্ট ঝটকা গতিতে আমাকে দাঁড় করালো অবিশ্বাস্য রোবট ভঙ্গিতে।




এবার পিছন ফিরে যখন গরু টানার মতো ছুঁটলো-
আমি চাপা স্বরে ওহ্……
থমকে দাঁড়ালো, আবারও শিখা উজ্জ্বল দৃষ্টিতে আমার চোখের পানে কিছু সেকেন্ড তাকালো,
দৃষ্টি ভঙ্গিতে মনে হচ্ছে, কথিত হরিণের লাফ ২৩হাত আর বাঘের লাফ ২২হাতের বিনা রেইসেই আজ বাঘ হরিণ শিকার করছে।
কিছুক্ষণ এভাবেই কেটে গেলো।
হঠাৎ যুবক তার মজবুত হাতখানি রাখলো আমার নাজুক কোমরের ওপর।
অনাকাঙ্ক্ষিত ছোঁয়ায় কম্পিত হলো আমার অঙ্গজুড়ে।
আরো এক পা এগুলো আমার সম্মুখ পাণে
আমি শুকনো গলায় বাকরুদ্ধ তাকিয়ে।
প্রবল গতীতে তুলে নিলো নিজ বাহুডোরে। সুঠাম বুকের পাশে। সেকেন্ডে যেনো হাজার মাইল দৌড়াচ্ছে আমার রক্তকণা। বৃষ্টির ধারা ও নিজ রঙ দেখালো, বইছে প্রবল গতীতে।




তার মুখমণ্ডল ছুঁয়ে বৃষ্টির ধারা স্পর্শ করছে আমার বুক। গ্রীষ্ম খরায় বর্ষার ছোঁয়ার মতো।
যুবক রোবট ঢঙে শুধু সামনে তাকিয়ে হেঁটেই চলছে।
খানিক দূর নিমতলায় গিয়ে শেষ হলো চলা।
আবারও কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাকে রোবট ভঙ্গিতে ঠাঁস করে ছুঁড়ে ফেলল কোল থেকে। কোন বোঝা ছোঁড়ার মতো।
আমার উচ্চ চিৎকারে আবারও– ওহহহ্
যুবক আবারও বেশ রাগান্বিত ভঙ্গিতে তাকালো যেনো ঠেকার দ্বায়ে, বাঘ হরিণ এক ঘাটে পানি খাচ্ছে।
আমি ও আবেগী ব্যথাময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি।
আকাশ কোণে গুড়-গুড় শব্দে হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকালো। সেকেন্ডেই গুড়ুম এক ভয়াবহ আওয়াজে আমি প্রচণ্ড চিৎকারে জড়িয়ে ধরলাম যুবককে।
মূহুর্তে মনে হলো আমি যেনো
কংক্রিটের অরন্যের স্রোতস্বিনী নদীর বুকে।
কতক্ষণ ছিলাম জানা নেই, এ যেনো পরম তৃপ্তময় এক সুখের রাজ্য।




হঠাৎ, প্রচণ্ড ঝটকায় চোখ মেলতেই দেখি মুঠোখিঁচা মুখটি তার মুখের সামনে। এতটা কাছে যে তার নিশ্বাস যেনো সাহারা মরুভুমির গরম হাওয়ার চাইতে উত্তপ্ত । তুষের অনলের মতো জ্বলে যাচ্ছিলো সর্বাঙ্গ।
তার দু’চোখের জলন্ত অগ্নিকুণ্ডের ফুলকিতে জ্বালিয়ে দিচ্ছে আমায়। চারদিকের ঝড়ো হাওয়া কিছুটা শান্ত হতে না হতেই আবারও এক অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা ছলে পিছু হটলো।
এবার ব্যথার অনুভূতিটুকুই হারিয়ে ফেলেছি।
সে রোবটের মত পিছু ঘুরে হাঁটতে লাগলো। আমি অবাক ব্যথা দগ্ধ বুকে শুধু তাকিয়ে। মনে হচ্ছিলো আমার অনেক মূল্যবান জিনিসটাই রয়ে গেলো তার কাছে।




কিছুদূর যাবার পর আবার দাঁড়ালো। শুধু মাথাটা বাঁকিয়ে এক পলক দেখলো আমার চোখে। আবার চলছে অজানা গন্তব্যে আমি শুধুই নিষ্পলক তাকিয়েই। এক সময় হারিয়ে গেলো দূর থেকে দূর— বহুদূর অজানার দেশে।পরিশেষে বোঝলাম এ শুধু রোবট নয়, এক জলজ্যান্ত চোরও বটে। করেছিলো আমার, বাসন্তী হৃদয় চুরি। তাইতো যখনি বিজলী চমকায়, মনে হয় বৃষ্টি নামবে, আমি ছুটে যাই আমার সেই হৃদয় হারানো নদীর পাড়। নানা বাহানায় ছুটি পিচ্ছিল স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায়। খুঁজি সেই রোবট চোরকে, যদি ফিরে আসে আবারও একবার।আমি আজও আমার হৃদয় ফেরত পাওয়ার একবুক প্রতীক্ষায়।

আরও পড়ুন>> রোকসানা সুখী’র ছোট গল্প- আনমনা বিকেলে

নিউজটি সেয়ার করার জন্য অনুরোধ রইল!





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ অনুসন্ধান

আজকের কুইজ

সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ কোনটি?

ফলাফল জেনে নিন

Loading ... Loading ...
google map durjoybangla







আজকের নামাজের সময় সূচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:১২ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১৫ অপরাহ্ণ
  • ৪:২১ অপরাহ্ণ
  • ৬:০৩ অপরাহ্ণ
  • ৭:১৭ অপরাহ্ণ
  • ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে গাড়ি জগতে আমদানিকারকের একটি বিশস্ত প্রতিষ্ঠান auto cox

auto cox_durjoybangla.com







©২০১৩-২০২০ সর্বস্তত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দুর্জয় বাংলা
Desing & Developed BY DurjoyBangla