সখীপুরে বনভূমির প্রায় ৪৫ হাজার একর জমির মধ্যে ৮হাজার২৭৬ একর জমি দখল হয়ে ধ্বংসের পথে! 

জেলা প্রতিনিধি,টাঙ্গাইল ।।

সখীপুর উপজেলায় বনভূমির প্রায় ৪৫ হাজার একর জমির মধ্যে ৮ হাজার ২৭৬ একর জমি জবর দখল হয়ে ধ্বংসের পথে! দেখার কেউ নেই? 

টাঙ্গাইলের সখীপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘শাল-গজারির বন’ আজ প্রায় ধ্বংসের পথে। শাল-গজারি বন বিলীন হওয়ার সাথে সাথে বিলীন হচ্ছে শিয়াল, খেঁকশিয়াল, সজারু, বনবিড়াল, কাঠবিড়ালিসহ নানা প্রজাতির বণ্যপ্রাণী, পাখপাখালি, কীটপতঙ্গের অস্তিত্বও বিলীন হচ্ছে। এতে করে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। নেমে আসছে পরিবেশের বিপর্যয়। অপরদিকে ওইসব বন-জঙ্গল কেটে দিনদিন নতুন বাড়ি-ঘর, দোকানপাট, পোল্ট্রি খামার নির্মাণ এমনকি মাটি কেটে বনের জমি নীচু করে আবাদও করা হচ্ছে।

স্থানীয় বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট বনভূমির পরিমান প্রায় ৪৫ হাজার একর। এরমধ্যে আট হাজার ২৭৬ একর জমি জবর দখল হয়ে পড়েছে। শাল গজারি গাছ রয়েছে প্রায় চার হাজার একর জমিতে। টাঙ্গাইল বন বিভাগের বহেড়াতৈলী রেঞ্জের সদর, ডিবি গজারিয়া, কাঁকড়াজান, হাতিয়া রেঞ্জের সদর, কালমেঘা, কড়ইচালা, বাজাইল, কালিদাস বিট ও বাঁশতৈল রেঞ্জের নলুয়া বিটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওইসব বিটে প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে ওঠা শাল-গজারির বন টিকিয়ে রাখতে স্থানীয়দের মাঝে প্লট আকারে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কাঠ চোর ও কাঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে গহিন বনে এসব গজারি গাছ দিনের বেলায় কেটে রাতের বেলায় ট্রাক ও ট্রলিতে করে পাচার হচ্ছে। কিছু গজারি গাছ বিভিন্ন করাতকলে গিয়ে চেরাই হচ্ছে আবার কিছু যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরের বহুতল ভবন নির্মাণে পাইলিংয়ের কাজে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল বন বিভাগের বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা আতাউল মজিদ বলেন, সামাজিক বনায়নে ১০ বছর পর উপকারভোগীরা আর্থিক সুবিধা পায়। কিন্তু শাল গজারি বনে উপকারভোগীরা ২০ বছর পর পর পায়। ফলে উপকারভোগীরা শাল গজারি প্লট নিতে চায় না। তিনি দাবি করেন, বনের শাল গজারি গাছ এখন আর কেউ কাটে না। যেগুলো কাটা যায়, সেগুলো ব্যক্তি মালিকানা জমির শাল-গজারি। তারপরেও কোনো বিট কর্মকর্তা শাল-গজারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here