সাঁথিয়া ধুলাউরির ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের সত্যতা মেলেনি

সাঁথিয়া ধুলাউরির ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের সত্যতা মেলেনি

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জরিফ হোসেনকে নিয়ে নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে একটি কুচক্রি মহল। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সমনে রেখে এমন চক্রান্ত শরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।



ইউপি চেয়ারম্যান জারিফ হোসেন জানান, ধোপাদহ ইউনিয়নের পাচ ধোপাদহ গ্রামের মোঃ লিটন হোসেনের মেয়ে আয়েশা খাতুনের সাথে গত এক বছর পুর্বে বিয়ে হয় ধুলাউরি ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের রুবেল হেসেনেরে সাথে। লিটন হোসেন তাকে জানান, জামাই রুবেল যৌতুকসহ তার মেয়ের উপর অমানুষিক নির্যাতন করছে। বিষয়টি জানার পর আমি লিটন হেসেনকে বলি তার মেয়ে আয়েশাকে সাথে নিয়ে পরিষদে আসতে। গত শনিবার লিটন হোসেন তার মেয়ে আয়েশাকে সাথে নিয়ে পরিষদে আসেন। পরিষদে উপস্থিত ছিলেন, ধুলাউরি ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার, সাবেক মেম্বার রাজেম আলী, স্থানীয় ব্যবসায়ী রেজাউল করিমসহ আরো অনেকে। সবার সমনে মেয়ের বক্তব্য শোনার সময় তার বাবা লিটন হেসেন অসংলগ্ন কথা বলেন। এ সময় আজিজ মেম্বার তাকে বলেন, আপনি এভাবে পরিষদে সবার সমনে কথা বলছেন কেন। আপনি কি গাঁজা খেয়েছেন। এ সময় লিটন হোসেন বলেন, আমি মাঝে মধ্যে গাঁজা খাই। এ কথা শুনে আজিজ মেম্বার তাকে একটি চড় মারেন এই বলে যে, আপনের এত বড় সাহস সবার সামনে আপনি স্বীকার করছেন আপনি গাঁজা খান। এ ঘটনার পর মেয়ের থেকে জবানবন্দি শুনে তাদেরকে বিদায় করে দেওয়া হয়।



পরে জানতে পারি লিটনের স্ত্রী ময়ুরী খাতুন বাদী হয়ে আমার নামে সাঁথিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। চেয়ারম্যান জরিফ হোসেন জানান, মেয়ের বাবা পরিষদে সবার সামনে গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আজিজ মেম্বার একটি চড় মেরেছে। আমি লিটনকে কেন মারতে যাবো। লিটন তো আমার ইউনিয়নেরও বাসিন্দা না। তাহলে তাকে মারার প্রশ্নই উঠে না। আমি পরিষদের গ্রাম আদালতে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে রায় দিয়ে দিব। সে যদি বিচার না মানে, তাহলে বিচারিক আদালতে মামলা করবে। একটি কুচক্রি মহল আগামী নির্বাচনকে সমনে রেখে আমাকে হেয় করতে এ ধরনের অীভযোগ থানায় দিয়েছে। থানা পুলিশ তদন্ত করে দেখুক আমি অপরাধী কিনা।

শালিসে চড় মারার অভিযোগের বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইনচার্জ আসাদুজ্জামান এর সাথে মোবাইলে কথা বলা হলে তিনি জানান, অভিযোগ পেয়ে আমি তদন্ত অফিসার আমিনুল ইসলামকে ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য পাঠিয়েছিলাম। তবে অভিযোগের বিষয়ে কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেলেও জরিফ চেয়ারম্যান লিটনকে চড় মেরেছে এটার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তদন্তের বিষয়ে তদন্ত অফিসার আমিনুল ইসলামের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি জানান, অভিযোগকারীর অভিযোগ সঠিক না। গাঁজা খাওয়ার কথা স্বীকার করায় আজিজ মেম্বার তাকে একটি চড় মারে এটা সত্য। চেয়ারম্যান জারিফের বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি মিথ্যা। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হয়নি তিনি।



ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আজিজ মেম্বার আয়েশার বাবা লিটনকে চড় মারে। তবে কাউকে থাপ্পর মাড়াটা যেমন ঠিক না, তেমনি প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করাটাও ঠিক হয়নি। তবে এটা নিয়ে যে থানা পুলিশ বা মিডিয়ায় নিউজ হবে, এটাও আমরা কল্পনা করতে পারছি না। থানায় লিটনের স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের সুত্র ধরে একটি অনলাইন মিডিয়ায় চেয়ারম্যান জরিফের বিরুদ্ধে নিউজ প্রকাশিত হয়।

আরো পড়ুন>>>বাউফলে গ্রামীণফোনের মেশিন রুমের ২২ লাখ টাকার মালামাল চুরি

আপনার মতামত লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here