13.7 C
New York
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

সাত ছেলের মা ভিক্ষুক!

বিজ্ঞাপন

দুর্জয় বাংলা ডেস্কঃ
৭৫ বছর বয়সী জরিনা বেগম মৃত মনছুব আলীর স্ত্রী। নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের হরিয়ামালা গ্রামের বাসিন্দা এ নারী। বয়সের ভারে আর রোগে নড়বড়ে শরীর। এ বয়সে নাতি-নাতনির মাঝে দিন কাটানোর কথা ছিল তাঁর। অথচ ১০ সন্তানের বৃদ্ধ মা জরিনা বেগমকে বেঁচে থাকার যুদ্ধে প্রতিনিয়ত হাত পাততে হচ্ছে মানুষের কাছে।



বিজ্ঞাপন

সুস্থ্য সবল ১০ জন সন্তান জন্ম দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ৭ ছেলে, ৩ মেয়েরা তাদের পরিবার নিয়ে বেশ আছেন। বৃদ্ধা মায়ের বোঝা টানতেই যেন শত অপারগতা তাদের। যে মা দশ মাস দশদিন গর্ভে ধারণ করে একে একে জন্ম দিয়েছিলেন দশটি সন্তান। সেই মাকে পেটের ক্ষুধা মেটাতে রোজ ভিক্ষার থালা হাতে নামতে হয় পথে।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশীরা জানান, ছেলেরা কাজকর্ম করে ভালোই চলেন। কিন্তু কেউ মাকে খাবার দেন না। গত দুই বছর ধরে তিনি ভিক্ষা করে খান। বৃদ্ধ মানুষ, শরীর খারাপ থাকলে ভিক্ষা করতে যেতে পারেন না। তখন না খেয়েই শুয়ে থাকেন। কোনো ছেলে বা ছেলের বউ তাকে খেতে দেন না, খোঁজ খবরও নেন না।

বিজ্ঞাপন




বড় ছেলে নূরুল ইসলাম (৫৫), লকুজ মিয়া, সালাম মিয়াসহ অন্যান্য সন্তানরা বাড়িতেই বসবাস করেন। কিন্তু কেউ তাদের মাকে খেতে দেন না।

বিজ্ঞাপন




জানতে চাইলে জরিনা বেগম জানান, আমার কোনো সন্তান নেই। আমার কেউ নেই। শনিবার রাতে ২’শ গ্রাম চাল থাকলেও তিনি রান্না করেননি। কারণ, সকালে খেতে হবে।





খবর পেয়ে কেন্দুয়ার কল্যাণী ফাউন্ডেশনের সভাপতি কল্যাণী হাসান ঐ গ্রামে গিয়ে দেখেন, খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন জরিনা বেগম। তাকে দেখে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন জরিনা।




এ সময় ‘কল্যাণী ফাউন্ডেশন’ এর সভাপতি কল্যাণী জানান, আমি ওই বৃদ্ধার আজীবনের দায়িত্ব নিতে চাই। তিনি যদি আমার বাড়িতে যেতে চান নিয়ে যাব। না গেলে তার কাপড় চোপড়সহ ভরণপোষণের দায়িত্ব নেব। এ পর্যন্ত ওই নারী বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা পাননি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞাপন
x