13.7 C
New York
Saturday, July 31, 2021

সিডিএর আদেশে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ- মানবতার জীবনযাপন করতেছে অর্ধশতাধিক পরিবার

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ভূতুড়ে ও মানবতার জীবনযাপন করতেছে অর্ধশতাধিক পরিবার। বসবাস করছে চট্টগ্রাম নগরীর মোগলটুলী এলাকার অর্ধশত পরিবার।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অভিযানে একটি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার কারণে আলোহীন অবস্থায় আছে এসব পরিবার। ভবনটিতে মোট ১০৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে। গত সোমবার ভবনটির অনুমোদনহীন কিছু অংশ উচ্ছেদ করে সিডিএ। সে থেকে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা বেগম মহিউদ্দীন স্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে আমাদের ভবনে সিডিএ অভিযান পরিচালনা করেছে। এর আগে আমরা কিছু জানতাম না। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে, পানিও নেই। বাসায় বয়ঃবৃদ্ধ লোক আছে, বাচ্চা আছে। সবাই আমরা অন্ধকারের মধ্যে আছি। বস্তির লোকজনকেও তো এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা ফ্ল্যাট কিনে বসবাস করছি। একটি ভবন দিনে দিনে তৈরি হয়নি। সিডিএ নিশ্চয় প্রতিমাসে বা নিয়মিত তদারকিও করেছিল। এখন তারা ভবনটিতে অবৈধভাবে বাড়ানোর অভিযোগে উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু আমরা যারা ভবনে আছি, আমাদের তো কোন অপরাধ নেই। আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ কেন বন্ধ করা হবে।

সিডিএর অভিযোগ দশ তলা অনুমোদন নিয়ে মোগলটুলী এলাকায় মোহাম্মদ জানে আলম ১২তলা ভবন তৈরি করেছে। যদিও জানে আলমের দাবি তিনি ১৪তলা ভবনের অনুমোদন নিয়েছেন। গত সোমবার সিডিএর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ভবনটির অবৈধ অংশ উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের আগে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। অভিযান শেষ হলেও ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। ভবনটিতে অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করে। ইতিমধ্যে ভবনের বেশিরভাগ ফ্ল্যাট বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন ফ্ল্যাট ক্রেতারা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর ৬ দিন কেটে গেলেও পিডিবি ভবনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়নি। এত বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন এসব পরিবার।

বিজ্ঞাপন

ভবনের মালিক মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, সিডিএ থেকে আমাকে প্রথমে দশ তলা এবং পরবর্তিতে আবার চৌদ্দ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল। সে অনুসারে আমি ভবন নির্মাণ করেছি। কিন্তু সিডিএ হঠাৎ করে আমার ভবনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। দশতলার পর বাকিটা অবৈধ বললেও সিডিএ আমার ভবনের নিচের অংশেও ভাংচুর করেছে। ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ভবনে আমরা অর্ধশতাধিক পরিবার থাকি। এক সপ্তাহ ধরে সবাই অন্ধকারে আছে।

সূত্র মতে, মোগলটুলী এলাকায় মোহাম্মদ জানে আলম একটি বহুতল ভবন তৈরি করেন। মোট ১৬ গন্ডা জায়গার উপর আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবণ নির্মাণের জন্য তিনি নকশা জমা দেন সিডিএতে। বিসি কেইস নম্বর ৫৩৪/২/১৫-১৬ মূলে সিডিএ ১০ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রদান করেন। মোহাম্মদ জানে আলম ২০১৬ সালের ৩১ মে এই নকশা গ্রহন করেন। নকশা নেয়ার পর তিনি ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করেন।

মোহাম্মদ জানে আলম ‘সামার হোল্ডিং লিমিটেড’ নামের একটি ডেভেলাপমেন্ট কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসাবে নানাজনের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করেন। নির্মাণ কাজের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেন।

এরমধ্যে কিছু ফ্ল্যাট ক্রেতা এবং পারশবর্তী স্বার্থন্বেষী মহলের সাথে জানে আলমের নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে থানা থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এরই মধ্যে সিডিএ ফ্ল্যাট নির্মাণে জালিয়াতির অভিযোগ এনে নকশার বাইরের অংশ ভেঙে ফেলার জন্য নোটিশ প্রদান করে। এই নোটিশ প্রাপ্তির পর মোহাম্মদ জানে আলম হাইকোর্টে গিয়ে সিডিএর নোটিশের বিরুদ্ধে একটি রিট পিটিশন (নম্বর ৯০৩১/২০১৯) দাখিল করেন। সিডিএর বিরুদ্ধে জারিকৃত এই পিটিশনে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের পক্ষ থেকে আয়কর আইনজীবী মোহাম্মদ আবু তালেব, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম এবং আবদুল গফুর পক্ষভুক্ত হন।

জানে আলম আরেকটি রিট পিটিশন (নম্বর ৯৪৫/২০২১) দাখিল করেন। এতে আদালত দুই মাসের স্থগিতাদেশ জারি করেন। যা আইনজীবীর মাধ্যমে ০৭ জুন সকালে সিডিএকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। জানে আলমের দাবি, প্রথম দফায় দশতলা অনুমোদন দিলেও দ্বিতীয় দফায় ১৪তলা ভবনের অনুমোদন দিয়েছিল সিডিএ। তাছাড়া আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়টি সিডিএ ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করার পরও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ।

পিডিবির আগ্রাবাদ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী হোসাইন ইমরান বলেন, সিডিএ ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বলেছেন, সেজন্য বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সিডিএ থেকে তো আবার সংযোগ লাগিয়ে দিতে বলে নাই। সিডিএ যদি আবার লাগিয়ে দিতে বলে তাহলে আমরা লাগিয়ে দিব।

বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদ জানে আলমের পুত্র রিয়াদ জানান, আমার বাবার সারা জীবনের সব সঞ্চয় শেষ করে দেয়া হয়েছে। একটি চক্র আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। তারা সফল হলো। অনুমোদন নেয়ার পরও শুধু এক পেশীয়ভাবে সিডিএ আমাদের ভবন ভেঙেছে। আমরা আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টের আদেশ সিডিএতে জমা দিয়েছি। পরদিনই সিডিএ আমাদের ভবন ভাংচুর করে।

তিনি বলেন, সিডিএর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমাদের জিম্মি করে রাখেন। আমাদের মোবাইর ফোন জব্দ করে নেন, যেন আমরা কোন যোগাযোগ করতে না পারি। বিপুল পুলিশ ও সরঞ্জাম নিয়ে এসে তারা আমাদের ভবন ভেঙেছে। ঘরের জিনিসপত্র বের করার সুযোগ পর্যন্ত তারা আমাদের দেয়নি। আমাদের সমস্ত সঞ্চয় শেষ করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ সংবাদ

x