মঙ্গলবার ০৫ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০

দুর্জয় বাংলা || Durjoy Bangla

তালিকায় আসেনি অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের নাম

উফশী প্রনোদনার বীজধান ও সার প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন নামধারী কৃষকরা

প্রকাশিত: ২০:২২, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

উফশী প্রনোদনার বীজধান ও সার প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন নামধারী কৃষকরা

উফশী প্রনোদনার বীজধান ও সার প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন নামধারী কৃষকরা

কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিনামূল্যে বিতরণ করা উফশী প্রনোদনার বীজ ও সার প্রকাশ্যে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। তালিকাভুক্ত অধিকাংশ নামধারী কৃষকগণ তাদের নামে বরাদ্ধকৃত বীজ ও সার অবাধে ডিলারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে সরকারের উদ্দেশ্য অপরদিকে তালিকা থেকে বাদ পরেছেন অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কেন্দুয়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে মোট ৫ হাজার ৩০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বোরো ধান উফশী প্রনোদনা বিতরণ করা হচ্ছে ৩-৪ দিন ধরে। বিতরণ করা প্রনোদনার মধ্যে রয়েছে ৫ কেজি বীজ ধান ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ এমওপি সার। এসব বীজ সার কৃষি বিভাগ থেকে সংগ্রহ করে প্রকাশ্যেই প্রতিজন নামধারী কৃষক তাদের নামে বরাদ্ধকৃত সার ও বীজ ৪৭০ থেকে ৪৮০ ও ৪৯০ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এই ৫ কেজি বীজ ধান দিয়েই অন্তত পক্ষে ২৫ মন ধান উৎপাদন করা যেতো যদি তারা চাষ করতেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ২ সপ্তাহ আগে উফশী প্রনোদনা বিতরণের জন্য বরাদ্ধ আসে। এরপর উপজেলা কমিটির মাধ্যমে বিভাজন করে ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা তৈরির জন্য পাঠানো হয়। তারা তালিকা তৈরি করে পাঠানোর পর উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সার ও বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

অভিযোগ ওঠেছে, স্বজনপ্রীতির কারণে ওই তালিকা থেকে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের নাম বাদ পরেছে। দলপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: শাহিন মিয়া বলেন, উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সংখ্যা পাওয়ার পর সকল ইউপি সদস্য ও তিনটি বøকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদেরকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা তৈরির জন্য দেওয়া হয়। আমরা সকলে মিলেই ওই তালিকা করে ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত তালিকা উপজেলা কৃষি বিভাগে জমা দেই। সেখান থেকে কৃষকরা বীজ ও সার উত্তোলন করে বিক্রি করে দেন কিনা, তা আমাদের জানা নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন সুলতানার কাছে জানতে চাইলে বুধবার তিনি বলেন, তালিকা তৈরি করেছেন পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটি। সেই তালিকা মোতাবেক প্রত্যেক কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, এক কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর ও মাস্টারোলে স্বাক্ষর গ্রহণ করে প্রত্যেককে ৫ কেজি বীজ ধান, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার বিতরণকালে আমি পরিদর্শনে গিয়ে দেখি ডিলারের কাছে প্রনোদনার বীজ সার বিক্রি করা হচ্ছে। তখন এ ঘটনা দেখতে পেয়ে একজনের বীজ সার জব্দ করেছি। এখন তারা অফিস থেকে ¯িøপ সংগ্রহ করে নিয়ে ডিলারদের কাছে অন্য জায়গায় বিক্রি করছেন কিনা সেটা দেখার মতো সুযোগ আমাদের নেই। তাছাড়া যদি কোন প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক তালিকা থেকে বাদ পরে থাকেন তাহলে পরবর্তী সময়ে প্রনোদনা আসলে সেই কৃষকের তালিকা অর্ন্তভুক্ত করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডিলার বলেন, প্রতিজন কৃষক আমার কাছে ¯িøপ নিয়ে আসছেন আমি ৪৮০ বা ৪৯০ টাকা দিয়ে ৫ কেজি বীজ ধান ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার কিনে রাখছি। তারা বিক্রি করছেন বলেই আমরা কিনছি এখানে আমাদের দোষ কোথায়?

আরও পড়ুন: মদনপুর শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (র:) মাজার জিয়ারত করেন অসীম কুমার উকিল


Notice: Undefined variable: sAddThis in /home/durjoyba/public_html/details.php on line 809