সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

দুর্জয় বাংলা || Durjoy Bangla

ফুলবাড়ীতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বাড়ল কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা

প্রকাশিত: ১৫:৪১, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আপডেট: ১৫:৪২, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ফুলবাড়ীতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বাড়ল কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা

ফুলবাড়ীতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বাড়ল কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বাড়ল প্রকারভেদে কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা সাধারণসহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়িদের দাবি, সিন্ডিকেট করে স্থানীয় পেঁয়াজের পাইকার ব্যবসায়ীরা এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রকারভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজির পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেছেন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজিদরে।

শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে ১০ টায় ফুলবাড়ী পৌর এলাকার পেঁয়াজের খুচরা ও পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ও পাইকারী বাজারে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজিদরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়িরা। এতে ক্রেতা সাধারণের মধ্যে হতাশ ও উদ্বিগ্নতা দেখা যায়।

পেঁয়াজ কিনতে আসা হিরেন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, গত শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজিদরে তিন কেজি পেঁয়াজ কিনেছিলেন। কিন্তু গতকাল শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাজারে এসে দেখছেন একই দেশি পেঁয়াজের প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। এজন্য এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

হোটেল ব্যবসায়ি উজ্জ্বল মহন্ত বলেন, গত বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ও গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রতিকেজি পেঁয়াজ কিনেছেন ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজি দরে। কিন্তু আজ শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) একই পেঁয়াজের দাম বেড়ে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে। এজন্য হোটেলের জন্য প্রয়োজন ১০ কেজি পেঁয়াজ কিন্তু দাম বৃদ্ধি পাওয়া ৭ কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন। কমবেশি করে এতেই চালিয়ে নেবেন তার ব্যবসা।

খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী হারুন উর রশীদ বলেন, সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পেঁয়াজের পাইকারী বাজারে প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে প্রকারভেদে ৮৭ থেকে ৯০ টাকা। আর খুচরা বাজারে ওই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজিদরে। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোনো প্রকার কারণ ছাড়াই পাইকারী ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে প্রকারভেদে ১০৫ টাকা কেজিদরে খুচরা বিক্রি করতে শুরু করেন। এ সময় তারা বিশেষ করে পাইকারী ব্যবসায়ী দীপক কুমার, আব্দুল জলিল, বিধান সাহা, তুহিন হোসেন, হামিদুল হক ও সবুজ কেউই খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের মজুদকৃত পেঁয়াজ বিক্রি না করে খুচরা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেছেন। এতে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা বজায় থাকলে দু’দিন পর খুচরা বাজারে পেঁয়াজ পাওয়া যাবে না।  

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হতে পারে এমন খবরে পাইকারী বাজারের ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই তাদের দোকান বন্ধ করে দেন। আবার অনেকে আরো দাম বাড়বে এমন আশঙ্কায় পেঁয়াজ বিক্রি না করে দোকানে মজুদ করে রেখে দিয়ে দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পাইকারী পেঁয়াজ ব্যবসায়ী দীপক কুমার বলেন, সকালে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মোকাম থেকে জানানো হয় মোকামে প্রতিমণ দেশি পেঁয়াজ ৪ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এজন্য মোকাম থেকে বলা হয় খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ১১০ টাকায় বিক্রি করতে। কিন্তু তারা সেটি না করে ৫ টাকা কমিয়ে ১০৫ টাকা কেজিদরে বিক্রি করছেন।

তিনি বলেন, যেহেতু এলসির পেঁয়াজ নেই, সেজন্য দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ পড়েছে। তাছাড়া দেশি পেঁয়াজ শেষের দিকে থাকায় দাম বাড়ছে। নতুন পেঁয়াজ উঠলে দাম কমে আসবে। এছাড়াও ভারত থেকে এলসিতে পেঁয়াজ আমদানি হলেও পেঁয়াজের দাম কমবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, পেঁয়াজের দাম কি কারণে বাড়লো তা আজই (শুক্রবার ৯ ফেব্রুয়ারি) বাজারে ভ্রাম্যমান অভিযান চালিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। 

আরও পড়ুন: প্রতিফল

কংকনা রায়


Notice: Undefined variable: sAddThis in /home/durjoyba/public_html/details.php on line 808