মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১ আশ্বিন ১৪৩০

চলাচলের রাস্তা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

প্রকাশিত: ১৮:৩১, ১৫ জুলাই ২০২৩

চলাচলের রাস্তা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

চলাচলের রাস্তা বন্ধ হওয়ায় বিপাকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

নেত্রকোণার বারহাট্টায় একটি ঈদগাহ মাঠ নির্মাণের কারণে বিপাকে পড়েছে মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিন ও তার পরিবার। উপজেলার কদমদেউলী গ্রামের এই ঘটনা। 

মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিন এই গ্রামের আব্বাছ উদ্দিনের ছেলে। তার অভিযোগ, ‘আমার বসত বাড়ির ঠিক পিছন থেকে আনুমানিক ৫০ ফুট দীর্ঘ পায়ে হাঁটার একটি রাস্তা সরকারী অপর একটি রাস্তার সাথে মিশেছে। এই রাস্তা দিয়ে পূর্ব পুরুষ হতে বংশ পরস্পরায় আমরা চলাফেরা করে আসছি।

গ্রামে সর্বজনিন ঈদগাহ মাঠ আছে। তারপরও কয়েকদিন আগে প্রতিবেশী আবুল হাসেম, জাহাঙ্গীর আলম জানু ও দুলাল মিয়া সহ কিছুলোক ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি মাঠ নির্মাণ করে আমাদের বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া, এই মাঠের উপর দিয়েও আমাদের হাঁটতে নিষেধ করেছে। এতে আমরা কার্যত নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি।’

এই প্রতিনিধি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিনের বাড়ির পিছনে অতিসম্প্রতি মাটি ভরাট করে একটি মাঠ নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠের চারপাশ জাল দিয়ে ঘেরাও করা। মাঠের দক্ষিণ পাশে মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিনের বসত বাড়ি। উত্তর পাশে সরকারী রাস্তা, পশ্চিমে নিচু জমি, পূর্বে আব্দুল মালেক ও আবুল হাসেমের বসত বাড়ি।

মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিন ও তার স্বজনদের বাড়ি থেকে বেড় হতে হলে নতুন করে অন্যের বাড়ির উঠান বা জায়গা ব্যবহার করতে হবে।
এ ব্যাপারে জাহাঙ্গির আলম জানু ও দুলাল মিয়া বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিনের দাবি করা রাস্তাটি ছিল আমাদের জায়গায়।

তিনি নিজেই পাকা ঘর নির্মাণ ও গাছ-গাছালি রোপন করে রাস্তাটির মুখ বন্ধ করেছেন। পরবর্তীতে আমরা তার বসতঘরের পিছনের জায়গাটি ওয়াকফ্ এস্টেটের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে এখানে ঊদগাহ মাঠ নির্মাণ করেছি। এই জায়গার পাশে আমাদের পারিবারিক কবরস্থানও আছে। বিকল্প হিসেবে আনুমানিক ১০০ ফুট পুবে আমাদের জায়গা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাসহ পাশাপাশি পরিবারসমূহের ব্যবহারের রাস্তা দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিনসহ সকলেই অবাধে রাস্তাটি ব্যবহার করতে পারেন।

এ ব্যাপারে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস. এম. মাজহারুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিনের একটি দরখাস্ত পেয়েছি। সাহতা ইউনিয়ন ভ‚মি-সহকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া, সহকারী কমিশনারকেও (ভূমি) পরিদর্শন রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:  কেন্দুয়ায় অগ্নিকান্ডে মুদি দোকান পুড়ে ছাই প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি!