শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

দুর্জয় বাংলা || Durjoy Bangla

মুসা সাহেবের রেলের টাকা শোধের তরজমা

প্রকাশিত: ২০:৫৫, ২৭ জুন ২০২৩

মুসা সাহেবের রেলের টাকা শোধের তরজমা

মুসা সাহেবের রেলের টাকা শোধের তরজমা

হিসাব করে রেলকে শোধ সব টাকা। এর আগেও এরকম খবর শিরোনাম আরো কয়েকটা পড়েছি। আমার দিব্যি ইয়াদ রয়েছে। তবে এ খবরটাকে আর ছাড়তে পারছি না। আসেন একটু তর্জমা করি । ১৭-০৬-২০২৩ খ্রিস্টাব্দ  তারিখে খবরটা বিভিন্ন পত্রিকায় এভাবে এসেছে। কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ব্যবসায়ী মোঃ মুসা ব্যবসা করেন চট্টগ্রামে। অনেক সময় লাকসাম থেকে চট্টগ্রামে এসেছেন ট্রেনে বিনা টিকিটে। বুঝতে পেরেছেন বিনা টিকিটে ভ্রমণ করায় রেলওয়ে তার কাছে অনেক টাকা পাওনা। মোটামুটি একটা হিসাব করে সেই বিনা টিকিটে ভ্রমণের টাকা বাবদ সাড়ে তিন হাজার টাকা চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম স্টেশন মাস্টার এর কাছে জমা দিয়েছেন। মারা যাওয়ার পর আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে পারবেন না এই ভয়ে তিনি টাকাটা জমা দিয়েছেন।

 আবার বলছি খবরটা কিন্তু নতুন নয়। কিন্তু এবার বিষয়টা নিয়ে কিছু প্রশ্ন প্রশ্ন উত্তর উত্তর খেলা খেলি। বাংলা প্রবন্ধের পথিকৃৎ, প্রমথ চৌধুরী বলেন, পরের জিনিসকে আপনার করে নেবার নামই তরজমা। 

আমি মোঃ মুসা সাহেবের সংবাদটিকে নিজের করে নিলাম। এতে আমার তেমন কোন লজ্জা হয়নি। কারণ প্রমথ চৌধুরী তর্জমা প্রসঙ্গে আরো বলেন - সুতরাং ও কার্য করাতে আমাদের কোন ক্ষতি নেই এবং নিজেদের দৈন্যের পরিচয় দেওয়া হয় মানে মনে করেও লজ্জিত হবার কারণ নেই। কেননা নিজের ঐশ্বর্য না থাকলে লোকে যেমন দান করতে পারেনা তেমনি নেবার যথেষ্ট ক্ষমতা না থাকলে লোকে গ্রহণও করতে পারেনা। স্মৃতির মতে দাতা এবং গ্রহীতার পরস্পর যোগ না হলে দান ক্রিয়া সম্পন্ন হয় না। এ কথা সম্পূর্ণ সত্য। মৃত ব্যক্তি দাতাও হতে পারেনা গ্রহীতাও হতে পারে না। কারণ দান এবং গ্রহণ ওই জীবনের ধর্ম। তাই মুসা সাহেব মরার পরে যে হিসেবের কথা বলছেন তার তরজমা অবশ্যই হতে পারে।

মুসা সাহেবের দান বা ঋণ পরিশোধকে তরজমা বিষয় নেওয়ার অন্যতম কারণ আমার দীনতা। প্রমথ চৌধুরীর তরজমার সংজ্ঞা আর অভয় বাণীতে আমিও সাহস করে বলতে এসেছি, মুসা সাহেবের মত আমিও বিনা বাড়ায় ট্রেনে চড়েছি দীর্ঘ দশ থেকে বারো বছর। কলেজে যেতাম বিনা ভাড়ায় বরমচাল টু কুলাউড়া আবার সিলেট টু বরমচাল যাওয়াটাও বিনা ভাড়ায় ঘটতো। আমি নয় আমার এলাকার ওই সময়ের অধিকাংশ শ্রমিক, পেশাজীবী লোকাল ট্রেনের যাতায়াত করতেন। মাঝে মাঝেই টিটি সাহেবকে চা পানির পয়সা দিতে হতো। এই হল অবস্থা, আমার দেখা এই গ্রেটার সিলেট বিভাগে সিলেট অঞ্চলের লোক যারা রেল লাইন বিনা চলাচলের সুযোগ পেতেন না, তারা অধিকাংশই বিনা টিকিটে লোকাল ট্রেনে চড়তেন, চড়তে বাধ্য হতেন। কারণ অভাব অনটন হোক আর যে কারণেই হোক এটা একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল। লোকাল ট্রেনের সাথে পঁচিশ বছর ধরে তেমন কোন যোগাযোগ নেই। তবে অবস্থা তেমন উন্নতি হয়েছে বলে শুনিনি। রেলের পাশাপাশি সড়ক পথের যোগাযোগ স্থাপিত হয়ে রেলের উপর মানুষের নির্ভরতা কমেছে উন্নতির মধ্যে এই যা। 

যদি এমন একটি জরিপ চালানো হতো যারা ছাত্র জীবনে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করেছেন কিন্তু এখন যথেষ্ট সচ্ছল। কেউ কেউ আয়েশী জীবন যাপন করছেন। তারা মুসা সাহেবের মতো রেলের টাকা ফেরত দিতে চান কিনা ?

সেই টাকা মুসা সাহেবের হিসাব মত সাড়ে তিন হাজার টাকা হতে পারে এবং সেটা বা তার চেয়ে বেশি টাকাও ফেরত দেয়ার সক্ষমতা অনেকের রয়েছে তাদের সংখ্যা কত ? শুধু সিলেট বিভাগে এই জরিপের ফল হতে পারে জনসংখ্যায় কমপক্ষে এক লক্ষ। 

এক লক্ষ লোক সাড়ে তিন হাজার টাকা করে দিলে অনায়াসে উন্নত মানের দু একটি ট্রেন কেনা সম্ভব ?

এক্ষেত্রে আমরা যদি পাওনাদার রেলওয়ে কে গ্রহীতা এবং বিনা বাড়ার যাত্রীদের দাতা ভাবি তাহলে দাতা ও গ্রহীতার পরস্পর যোগাযোগ হওয়া উচিত। নইলে দানক্রিয়া যে সম্পন্ন হবে না। প্রমথ চৌধুরী বলেন আমরা মনে মনে যা তরজমা করে নিতে পারি তা আমরা জানি। যা পারিনা তার শুধু নামমাত্রের সঙ্গে আমাদের পরিচয়। আমার সাথে মুসা সাহেবের পত্রিকার মাধ্যমেই পরিচয়। পত্রিকার মাধ্যমেই জেনেছি তিনি পরকালের ভয়েই রেলের টাকা ফেরত দিচ্ছেন। মুসা সাহেবের এই উদ্দেশ্যকে সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। কারণ প্রমথ চৌধুরী আবার বলেছেন , মানুষেরা যা আত্মসাৎ করতে পারে না তা ভষ্মসাৎ করতে চায়। মুসা সাহেব কী তাই করছেন ? নইলে একমাত্র রেল ছাড়া আর কেউ কি তার কাছে টাকা পয়সা, কোন সম্পদ পায় না। তিনি কি অন্য বিষয়গুলোর সমাধান করেছেন ? পত্রিকা এ বিষয়ে আর কিছু বলেনি। আমরা টাকা ফেরত দেবার বেলায় রেলকে কেন গুরুত্ব দিচ্ছি বা বেছে নিচ্ছি ?তা তরজমার দরকার আছে বলে মনে হয়। তাহলে রেলওয়ের ষ্টেশনগুলো অনন্য স্থানে পরিণত হলো নাকি?কোন তীর্থস্থান হয়ে গেল। মানুষের এ ধরণের উপলব্ধি হলে বিপদ। আখড়া, মাজারের লোক রেলের এ উন্নতি মেনে নেবে কেন? যদিও দুই জায়গাতেই প্রায় একই ছবি। কেউ  ট্রেনের অপেক্ষায়, কেউ মরণের। মুসা সাহেবের আইডিয়াটা রেল হতে ঘরে -দুয়ারে নিয়ে আসতে পারলে পৃথিবী স্বর্গ হয়ে যেত।

পরকাল ভীতি মিস্টার মুসার মত সবার মধ্যেই  কম বেশী আছে। মৃত্যুর পূর্বে সবাইকে পরীক্ষা দিতে হয় মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে অনেককে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তখন অনেক ধর্মে তার মৃত্যুর জন্য প্রায়শ্চিত্ত মূলক ক্রিয়া কর্মের অনুষ্ঠানাদি করতে হয়। তাই পরকাল না ইহকাল ভীতিতে মিস্টার মুসা কাজটি করছেন তার সঠিক অনুবাদ করা সম্ভব হবে না। কারণ মুসা শুধু রেলের কাছে তার ঋণ রয়েছে স্বীকার করেছেন এবং তা নামমাত্র হারে পরিশোধ করছেন। একশ টাকা কেজি চালের বাজারে সাড়ে তিন হাজার টাকা কোন টাকাই না। তাই মুসার এই সুকর্মকে তরজমা করে অন্যের উপরে প্রয়োগ করতে হলে অর্থাৎ মুসার মত সবাই এগিয়ে আসুন সমাজের যে যেখান থেকে লুট করেছেন, ফাঁকি দিয়েছেন, তা ফেরত দিয়ে যান তা বলতে হলে মুসাকে কয়েকটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।তাতেই মুসা কর্মের নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা পেতে পারে। ধরুন আমি হয়ে গেলাম ৭১ টিভির জার্নাল অনুষ্ঠান। আর আমিই  উপস্থাপিকা। হড়হড় করে সব বলে দিবেন মিস্টার মুসা।

আপনার কাছে জানতে চাই রেলের প্রতি এই দরদ আপনার উথলে উঠলো কেন ?

আপনি শুধু পরকাল ভয়ে টাকা ফেরত দিতে গেলেন ?আপনি কি এই কর্ম দ্বারা প্রচারের আলোয় আসতে চান? শুনেছি আপনি ব্যবসায়ী, নিজের প্রচার করতে চাচ্ছেন ?আপনি কি ধরণের ব্যবসা করেন?  দুই নম্বরী ব্যবসা হলে অনেকেই এরকম দান খয়রাত দেখিয়ে দরবেশ সাজতে চায়।  পরকালের কথা বলে ইহকালটা মহিমা ময় করতে চায়। ব্যবসা মানে কি ? কম দরে কেনা আর বেশি ধরে বেচা। নৈতিকতা এখানে খুব কম কাজ করে। যে যত বেশি দরে বিক্রি করে আখের গোছাতে পারে তার তত লাভ।তত প্রসার। তাহলে আপনি কি আপনার ব্যবসায়ী জীবনে এ ধরনের কর্ম করেন ? আর তা করে থাকলে যাদের ঠকেছেন, তাদের  টাকা ফেরত দিবেন কি? দর্শক শ্রোতা, আপনারা মিস্টার মুসাকে দেখতে পাচ্ছেন ? দর্শক শ্রোতা, আমরা মিস্টার মুসাকে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু তার কণ্ঠ শুনতে পাচ্ছি না। যান্ত্রিক গোলযোগ এর জন্য আমরা দুঃখিত। আপনারা আমাদের সঙ্গেই থাকুন।আমরা ছোট্ট একটা বিজ্ঞাপন বিরতির পর ফিরছি। মিস্টার মুসাকে মুছে পর্দায় বিজ্ঞাপন শুরু হয়ে গেল।

মিস্টার মুসার ঘটনাটা তরজমা করলে আমার কাছে এটা বিজ্ঞাপনই মনে হয়। মানুষের মনের অবস্থা যদি এই পর্যায়ে চলে যায়, আমি যা ভুল করেছি সব সংশোধনের চেষ্টা করব। অন্যায় ভাবে যেখান থেকে যা এনেছি তা ফেরত দেবো। যার কাছে যে ঋণ  রয়েছে তা শোধ করে মরতে চাই। তাহলে সে লোকের ব্যবসা থাকাটা কাল্পনিক বিষয়। তাকে হতে হবে বস্ত্রহীন উন্মাদ। অবশ্য আজকাল বস্ত্রহীন হিমালয় সন্ন্যাসীরাও অনলাইন অফলাইনে ব্যবসা করছেন।

আরও পড়ুন: বারহাট্টায় ডাকাতির প্রস্তুতকালে আটক-৬

শীর্ষ সংবাদ:

ঈদ ও নববর্ষে পদ্মা সেতুতে ২১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা টোল আদায়
নতুন বছর অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেরণা জোগাবে: প্রধানমন্ত্রী
কলমাকান্দায় মোটরসাইকেলের চাকা ফেটে তিনজনের মৃত্যু
র‌্যাব-১৪’র অভিযানে ১৪৫ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক
সবার সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করুন: প্রধানমন্ত্রী
ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত প্রকৃতি কন্যা জাফলং ও নীল নদ লালাখাল
কেন্দুয়ায় তিন দিনব্যাপী ‘জালাল মেলা’ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
ফুলবাড়ীতে ঐতিহ্যবাহী চড়কসহ গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত
কেন্দুয়ায় আউশ ধানের বীজ বিতরণ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত
কলমাকান্দায় দেশীয় অস্ত্রসহ পিতাপুত্র আটক
ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রামগঞ্জে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করছে গোবরের তৈরি করা লাকড়ি গৃহবধূরা
ফুলবাড়ীতে এসিল্যান্ডের সরকারি মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোন চাঁদা দাবি: থানায় জিডি দায়ের
ফুলবাড়ীতে সবজির দাম উর্ধ্বমূখী রাতারাতি দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ ভোক্তা
ধর্মপাশায় সরকারি রাস্তার গাছ কেটে নিলো এক শিক্ষক
সাঈদীর মৃত্যু নিয়ে ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দেয়ায় রামগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা বহিস্কার
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ীতে অনশন
মসিকে ১০ কোটি টাকার সড়ক ও ড্রেনের কাজ উদ্বোধন করলেন মেয়র
কলমাকান্দায় নদীর পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী বাঁশ-বেত শিল্প
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক যতীন সরকারের জন্মদিন উদযাপন
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ যতীন সরকারের ৮৮তম জন্মদিন আজ
১ বিলিয়ন ডলার নিয়ে এমএলএম mtfe বন্ধ
কলমাকান্দায় পুলিশের কাছে ধরা পড়লো তিন মাদক কারবারি
আটপাড়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১০৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
নকলায় ফাঁসিতে ঝুলে নেশাগ্রস্থ কিশোরের আত্মহত্যা
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুরুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস
কলমাকান্দায় আগুনে পুড়ে ২১ দোকানঘর ছাই

Notice: Undefined variable: sAddThis in /home/durjoyba/public_html/details.php on line 809