সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

দুর্জয় বাংলা || Durjoy Bangla

রামগঞ্জ পাক-হানাদার মুক্ত দিবস আজ

প্রকাশিত: ১৯:৩২, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩

রামগঞ্জ পাক-হানাদার মুক্ত দিবস আজ

রামগঞ্জ পাক-হানাদার মুক্ত দিবস আজ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা পাক-হানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ১৯ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে স্থানীয় রাজাকাররা পরাজয় বরণ করে এক এক করে আত্মসর্ম্পন করলে রামগঞ্জ থানা মুক্ত হয়।

এক পর্যায়ে রামগঞ্জ ৪ ডিসেম্বর ও ১৬ ডিসেম্বর দেশ ব্যাপী হানাদার মুক্ত বিজয় দিবস ঘোষণা করা হলেও রামগঞ্জ থানা শহর ছিল হানাদার দোসরদের দখলে। ১৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে স্থানীয় রাজাকাররা এক এক করে আত্মসর্মপন করার পর রামগঞ্জ মুক্ত হয়।

এ দিন পাক-হানাদারের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলসামস বাহিনীদেরকে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের চারদিক ঘিরে জিম্মি করে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধারা থানা এলাকায় প্রতিটি ইউনিয়ন ওয়ার্ডে জয় বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জয় শ্লোগান তোলে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র সংযুক্ত লাল সবুজ পতাকা উত্তোলন করে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। ৪ ডিসেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ দিন ব্যাপী মুক্তিযোদ্ধারা রামগঞ্জ শহরে জিম্মি হয়ে পড়া রাজাকারদের সাথে তুমুল যুদ্ধ করে রামগঞ্জকে মুক্ত করে। মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের মানচিত্র সংযুক্ত লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ ব্যাপী হানাদার মুক্ত ঘোষণা হলেও রামগঞ্জ থানা ছিল পাকিস্তানী হানাদারদের দোসর রাজাকারদের দখলে। ৪ ডিসেম্বর রামগঞ্জ থানায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় টিকতে না পেরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী তাদের দোসর রাজাকারদের রেখে থানা ত্যাগ করে, তৎকালীন লক্ষ্মীপুর মহকুমা শহর হয়ে নোয়াখালী জেলা মাইজদী শহর অভিমুখে চলে যায়। তারপর থেকে থানা এলাকা দখলে নিয়ে পুরো রামগঞ্জ শহরকে জিম্মি করে রাখে রাজাকাররা। ১৫ দিন ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে রাজাকারদের দফায় দফায় যুদ্ধ চলে। অবশেষে ১৯ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে স্থানীয় রাজাকাররা পরাজয় বরণ করে এক এক করে আত্মসর্ম্পন করলে রামগঞ্জ থানা মুক্ত হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রামগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সালেহ আহম্মদ পাটোয়ারী জানান, ১৯৭১সালের তৎকালীন সুবেদার তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে রামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধারা ছিল তৎপর। এ মুক্তিযুদ্ধে রামগঞ্জ থানা ৩৬জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামি অগনিত নিরীহ জনগন শহীদ হন।

এসময় তিনি আরো বলেন, ৪ ডিসেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫দিন ব্যাপী রাজাকারদের সাথে তুমুল যুদ্ধ করে রামগঞ্জকে মুক্ত করেছেন তারা। মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে জেলার রামগতি, রায়পুর, রামগঞ্জ কমলনগর ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশতাধিক খÐযুদ্ধ হয়। এর মধ্যে রামগঞ্জ-মীরগঞ্জ সড়কে ১৭ বার যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

পরে পরাজিত রাজাকারদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে বীরমুক্তিযোদ্ধারা রামগঞ্জ থানার লামচরের কৈল্লার চর খামার এলাকায় কাতাল্ল্যা দিঘীর পাশে এনে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে অ্যাডভান্সড মডেল স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ


Notice: Undefined variable: sAddThis in /home/durjoyba/public_html/details.php on line 808