সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

দুর্জয় বাংলা || Durjoy Bangla

পাবনায় অটো চালিয়ে সংসার চালান ইউপি মেম্বার আব্দুল জব্বার

প্রকাশিত: ১৬:৩৪, ১৩ জানুয়ারি ২০২৪

পাবনায় অটো চালিয়ে সংসার চালান ইউপি মেম্বার আব্দুল জব্বার

ইউপি মেম্বার আব্দুল জব্বার, ছবি: সংগৃহীত

গ্রামের পথ ধরে আপন মনে রিকশা চালাচ্ছেন ৪০ বছর বয়সী তিন সন্তানের জনক আব্দুল জব্বার। তিন চাকার অটো ইজিবাইক যতই ছুটছে ততই তার কপালে বাড়ছে চিন্তার ভাজ। কারণ সারদিনের খাবার জোগাড় করে বাড়ি ফিরতে হবে তাকে। 

কেবল স্ত্রী সন্তানদের নিয়েই চিন্তা নয়, তার চিন্তা আশেপাশের কয়েক গ্রাম ও গ্রামের মানুষদের নিয়েও।পাবনার বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার (সদস্য) তিনি। 

নির্বাচিত হওয়ার পরও বাদ দেননি অটো ইজিবাইক চালানো। এটাই তার একমাত্র পেশা। আবার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয়দের অনেকে তাকে ভালোবেসে 'গরীবের মেম্বার' বলে ডাকেন। তাদের ভাষ্য, ইজিবাইক চালান আবার মানুষের সুখ-দুঃখের কথাও শুনেন এই মেম্বার। 

এমন জনপ্রতিনিধি তারা কখনো পাননি। একদিকে সংসারের চাপ অন্যদিকে সুখ-দুঃখের খবর জানতে অটো চালিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়িও যান। তাই তো স্থানীয়রা জব্বারকে আবারও দেখতে চান একইভাবে,একই পদে। বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা তিনি। 

গত বছরের জানুয়ারিতে ইউপি নির্বাচনে নির্বাচিত হন জব্বার। মৃত হাজী মোহাম্মদ নুর ইসলাম মোল্লার ছেলে তিনি। নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই মানুষকে নানা সহযোগিতা করেছেন। সে কারণেই স্থানীয়দের কাছে আব্দুল জব্বারের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। 

সামনের দিনগুলোতেও সবার হয়ে থাকবেন আব্দুল জব্বার এমন প্রত্যাশার কথা জানান এলাকাবাসী। স্থায়ীয় অনেকে জানান, আমরা অনেক গরিব মানুষ। জব্বার মেম্বার হওয়ার পর থেকে আমরা আমাদের মনের কথা তাকে খুলে বলতে পারি। সে আমাদের অনেক সাহায্য সহযোগিতা করেন। আমাদের জন্য বেশি কিছু করুক সেইটাও চাইনা। যা দিছে এইটাই তো কেউ দেয় না। 

আব্দুল জব্বার এর স্ত্রী বলেন,আমার স্বামীর পড়াশুনা জানা নেই। আমরা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। ও আগে থেকেই মানুষের যেভাবে পারে সাহায্য করতো। তাই মানুষ ভালোবেসে আমার স্বামীকে নির্বাচনে দাড় করাইছিলো। আমার স্বামী যে মানুষদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মর্যাদা যেন রাখতে পারেন। আমি সেই দোয়াই করি। গরিবের সেবা করেই যেতে পারে যেন সব সময়। 

জব্বার বলেন, আমার ক্রয় করা কোন কৃষিজমি নেই। বাবার থেকে দশ-বারো শতাংশ জমি পাইছিলাম। তেমন বড় কোনো আয়ের মাধ্যম নেই।১৭ বছর ধরে ইজিবাইক চালাই। সারাদিন ইজিবাইক রিকশা চালিয়ে ৬০০ টাকার মতো আসে। এই আয়ে সংসার চালাই। মানুষের পাশে দাড়ানোর চেষ্টাও করি। সবার কাছে দোয়া চাই। আমি যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এমন সততার সঙ্গে চলতে পারি।

আরও পড়ুন: বিয়ের পিঁড়িতে চিত্রনায়িকা মৌসুমী হামিদ

রাউজ আলী/পা/জে


Notice: Undefined variable: sAddThis in /home/durjoyba/public_html/details.php on line 808