সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

দুর্জয় বাংলা || Durjoy Bangla

দুর্গাপুরে ভিত্তিহীন ঘটনায় ৭০ বছরের বৃদ্ধকে ফাঁসানোর অভিযোগ

প্রকাশিত: ২০:০৪, ২৬ নভেম্বর ২০২৩

আপডেট: ২০:৪২, ২৬ নভেম্বর ২০২৩

দুর্গাপুরে ভিত্তিহীন ঘটনায় ৭০ বছরের বৃদ্ধকে ফাঁসানোর অভিযোগ

দুর্গাপুরে ভিত্তিহীন ঘটনায় ৭০বছরের বৃদ্ধকে ফাঁসানোর অভিযোগ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সত্তর বছরের এক বৃদ্ধকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে মোছা.মদিনা খাতুনের বিরুদ্ধে। ২১ নভেম্বর ওই মামলাটি দুর্গাপুর থানায় রুজু করা হয়েছে। উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বিশ্বনাথপুর গ্রামের তোতা মিয়া(৭০)এর বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অভিযোগের কতক সাক্ষী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনার সরেজমিন খোঁজ নিতে গেলে মিথ্যে মামলা দাখিল করায় স্থানীয়রা তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন। মোছা.মদিনা খাতুন কাকৈরগড়া ইউনিয়নের বকেরচর গ্রামের সাদেক মিয়ার স্ত্রী। তবে অভিযুক্তের স্বামী সাদেক মিয়ার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এমনকি মিথ্যে ঘটনায় স্ত্রী কন্যাকে দিয়ে মামলা দাখিল করায় স্বামী সাদেক মিয়া এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরে বাড়ি থেকে লজ্জায় বের হননি বলেও জানান স্থানীয়রা।

বৃদ্ধার মেজো ছেলে উসমান গণি কান্না কণ্ঠে আকুতি জানিয়ে বলেন, তোতা মিয়া’র বয়স এখন সত্তর বছর। ৬ছেলে,৩মেয়ে সন্তান রয়েছে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও খাদ্য সংকটে এখনো অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে থাকেন তিনি। সন্তানরা পৃথক। তিন মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগে। সম্প্রতি তাবলীগ জামাত থেকে বাড়ী ফেরেন। ওই ঘটনার বেশকিছু দিন পূর্বে মোছা. মদিনা খাতুন কিছু টাকা ধার নেন। বেশ কয়েকটি তারিখেও পাওনা টাকা দেয়নি।

গত ২০নভেম্বর দুপুরে টাকা নিতে তাঁদের বাড়িতে গেলে দুইদিন পর টাকা দেয়ার রফা করেন। একদিন পর লোক মারফত শুনতে পাই আমার বাবা নাকী মদিনা খাতুনের বাক প্রতিবন্ধি মেয়ে মাসকুরা খাতুন(১৭)কে একা বাড়িতে পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সবাই মদিনা খাতুনকে ধিক্কার জানায়। এলাকার কোন লোক ওই সাজানো ঘটনায় মিথ্যে সাক্ষী দিতে রাজী হননি। একজন ছাড়া অন্য সাক্ষীদের বাড়ি ভুক্তভোগীর বাড়ি থেকে এক কিলো দূরত্ব হবে। ঘটনাটি পুরো মিথ্যা। পাওনা টাকা না দিতেই এরকম একটি ভিত্তিহীন ইস্যু দাঁড় করিয়ে বৃদ্ধ বাবাকে হয়রানি করার পায়তারায় নিমজ্জিত রয়েছেন মদিনা খাতুন। আমার এক ভাই আলেম মানুষ। গরীব হলেও সমাজে নুন্যতম অবস্থান নিয়ে বসবাস করছি। এখন আর মানুষের মাঝে মুখ দেখাতে পারছিনা। আমারও একবোন প্রতিবন্ধি রয়েছে। সন্তান হিসেবে মিথ্যে মামলা রুজুর বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বাবা দোষি হলে নিজ হতে থানায় হস্তান্তর করব।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিউল আলম জানান, মামলা নথিভুক্ত হওয়ার ঘটনাস্থল তদন্ত করেছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ওসি(তদন্ত) নুরুল ইসলাম বলেন, মামলাটি অধিকতর তদন্তের কাজ চলমান রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেহেতু ঘটনাটি জটিল। ভিকটিম বাক-প্রতিবন্ধি। ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: নেত্রকোণা-১ আসনে মোশতাক আহমেদ রুহী মনোনয়ন পাওয়ায় আনন্দ মিছিল


Notice: Undefined variable: sAddThis in /home/durjoyba/public_html/details.php on line 808