চা নাকি কফি: কোনটি বেশি উপকারী?
চা ও কফি—দুটিই বিশ্বজুড়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয়। কর্মব্যস্ত সকাল হোক বা অবসরের মুহূর্ত, এই দুই পানীয়ের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে—স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি ভালো? বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা বলছে, চা ও কফি উভয়েরই রয়েছে নিজস্ব উপকারিতা।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রাচীনকালে ব্রিটিশরা চা পানকে জনপ্রিয় করতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিল। তখন বলা হতো, চা ঠান্ডা-জ্বর, শরীর ব্যথা এমনকি কলেরার মতো রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর। যদিও সে সময় এসব দাবিতে কিছুটা অতিরঞ্জন ছিল, আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা চায়ের বহু স্বাস্থ্যগুণের প্রমাণ দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পানকারীদের মধ্যে যকৃতের সিরোসিসসহ বিভিন্ন লিভারজনিত রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়া ২০১৫ সালে প্রকাশিত একটি মেটা-অ্যানালাইসিসে ২৩ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, দিনে তিন কাপ চা পান করলে বিষণ্ণতার ঝুঁকি প্রায় ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
চা পানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস। গবেষণা অনুযায়ী, যারা প্রতিদিন তিন কাপ বা তার বেশি চা পান করেন, তাদের স্ট্রোকের আশঙ্কা প্রায় ২১ শতাংশ কমে। পাশাপাশি, নিয়মিত চা পান টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক এবং গ্রিন টি প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কফিতেও রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের জন্য উপকারী এবং মানসিক সতেজতা বাড়াতে সহায়তা করে। কফি মনোযোগ বৃদ্ধি ও ক্লান্তি দূর করতে কার্যকর হলেও অতিরিক্ত কফি পানের ফলে অনিদ্রা, উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি এবং হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসব গবেষণার বেশিরভাগই পর্যবেক্ষণমূলক ও জরিপভিত্তিক। তাই সরাসরি চা বা কফি পানই যে এসব উপকারিতার একমাত্র কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, চা নাকি কফি—কোনটি ভালো, তা মূলত নির্ভর করে ব্যক্তির পছন্দ, শারীরিক অবস্থা এবং পান করার পরিমাণের ওপর।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড টি–টোয়েন্টি ম্যাচ, লাইভ ক্রিকেট স্কোর, ধারাভাষ্য
দুর্জয় বাংলা