সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০

দুর্জয় বাংলা || Durjoy Bangla

আমি জনগণের সেবক জনগণের টাকায় আমার বেতন হয়-ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক

নিরেন দাস, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬:৪০, ২৮ এপ্রিল ২০২৩

আমি জনগণের সেবক জনগণের টাকায় আমার বেতন হয়-ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক

ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক

পুলিশের নাম শুনলেই জনগণের মনে প্রশ্ন জাগে"ঘুষ দিলেই সবকিছুই করা সম্ভব"পুলিশ সম্পর্কে এমন ভ্রান্ত ধারণা জনগণের মন থেকে মুছে দিতেই দালাল,ঘুষ মুক্ত উন্মুক্ত থানা গড়ে তুলেছেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক। এখন থানায় যেতে বা মামলা কোন দালাল ধরতে হয়না সরাসরি ওসির চেম্বারে গিয়ে কথা বলতে পারেন এই উপজেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষেরা।

এদিকে আমরা সকলেই জানি বর্তমানে সকল অপরাধের মূল চাবিকাঠি বলতে বোঝাই মাদক আর সেই মাদক নির্মূলে জয়পুুরহাট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম এর নির্দেশে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিকের দিকনির্দেশনায় আক্কেলপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেওয়াজ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারসহ সকল প্রকার অপরাধ দমনে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

পুলিশের এমন ভূমিকা দেখে প্রতিবেদক অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারে আক্কেলপুর থানায় ওসি আবু বক্কর সিদ্দিকের যোগদানের বয়ষ এখনো এক বছর পূর্ণ না হলেও তিনি এই কয়েক মাসেই ওসির নেতৃত্বে এসআই নেওয়াজ বিভিন্ন কৌশলে অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের আটক করেছেন পাশাপাশি এখনো মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার অভিযান চলমান রেখেছেন।নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে আক্কেলপুর পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আক্কেলপুর উপজেলায় প্রতিবেদক অনুসন্ধান চালিয়ে আরো জানতে পারে এই প্রথম কোন ওসি কোন প্রকার মাদকের টাকা বা অন্য কোন ঘুঘ গ্রহণ করেননা। এমনকি তিনি মাদকের বিষয়ে রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধিদেরও কোন সুপারিশও তিনি গ্রহণ না করে মাদকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েই যাচ্ছেন। এই কয়েকমাসের মাথায় এক সময়ের মাদকের মহারাজ্য নামে পরিচিত আক্কেলপুর উপজেলা যেখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যেত যে কোন মাদক আর এখন একশত টাকার মাদক বর্তমানে এক হাজার টাকা দিয়েও পাওয়া অসম্ভব। এতে প্রতিবেদকের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে একসময়ের শতভাগ মাদকের মহারাজ্য নামে পরিচিত আক্কেলপুর উপজেলা এখন ৮০ শতাংশে আনতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশি অভিযান এমন চলমান থাকলে বাঁকি ২০ শতাংশ মাদক মুক্ত উপজেলা গড়া সম্ভব বলে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়।

জেলার আক্কেলপুর উপজেলায় বর্তমানে মাদক না থাকায় চুরি,ডাকাতি,ছিনতাইসহ ছোটবড় বিভিন্ন অপরাধও নেই বলেই চলে। মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে ততৎক্ষনাত ওসির হস্তক্ষেপে হয় আপোষ মিমাংসা নয়তো কারাগারে যেতে হয়। পুলিশি এমন ভূমিকা থাকাই দিনরাত ২৪ ঘন্টায় সাধারণ মানুষেরা নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারে। যা বিগত অন্যান্য ওসির আমলে সন্ধার পরে পৌর শহর ব্যাধিত কোন রাস্তায় চলাফেরা করতে পারতেন না জনসাধারণ যা এখন উন্মুক্ত ভাবে চলাফেরা করতে পারে। এমনকি বর্তমানে পুলিশ দ্বারা কেউ হেনেস্তার শিকারও হয়নি যা বিগত দিনে এই থানায় পুলিশ দ্বারা বিভিন্নভাবে হেনেস্তার শিকার হয়েছিলেন স্থানীয়সহ বহিরাগত জনসাধারণেরা পাশাপাশি বদনাম নিয়ে বিদায়ী ওসিরা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আতাত করে সংবাদ প্রকাশের জেরধরে সাংবাদিকদের কেও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে বিভিন্নভাবে হেনেস্তার শিকার হয়েছেন পাশাপাশি জেল জুলুমও কেঁটেছেন। কিন্তু বর্তমান ওসির দ্বারা এখন পর্যন্ত কেউ মিথ্যা ভাবে হেনেস্তার শিকার হয়নি। বর্তমান ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক যোগদানের পর থানায় কোন দালাল বা রাজনৈতিক নেতাদের ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে দেখা যায়না।

জয়পুুরহাট জেলার পাঁচটি থানার মধ্যে আক্কেলপুর থানা এমন একটি থানা এই থানা থেকে সুনামের সহিত কোন যেতে পারেননি। যেসকল ওসিরা দায়িত্বে ছিলেন তারা এক বছরের উপর থাকতে পারেননি। এই থানা থেকে যেসব ওসিরা ছিলেন তাদের কেউ সন্মানের সহিত বিদায় নিতে পারেননি। তারা এক দেড় বছরের মাথায় ঘুষ,দুর্নীতি,চাঁদাবাজি মাদকের টাকা গ্রহণ করাসহ নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে কেউ ক্লোজ আবার কেউ প্রত্যাহার হয়ে তাদের যেতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ওসি আবু বক্কর সিদ্দিকের কোন প্রকার ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজিসহ মিথ্যা হবে কেউ হেনেস্তার স্বীকার হয়েছে এমন অভিযোগ এবং পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে পাওয়া যায়নি। বরং অনুসন্ধানে পাওয়া যায় তিনি তার বেতনের টাকা থেকে কাউকে না জানিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করে থাকেন।

আক্কেলপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নেওয়াজ  বলেন,ওসি স্যারের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার সহ বিভিন্ন অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি তিনি আরো বলেন এমন ওসি স্যার আক্কেলপুর উপজেলা বাসিরা পেয়েছেন যা সত্যিই ভাগ্য ও গর্বের বিষয়।

পরে আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক এর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, যে কেউ আমার থানায় আসতে বা আমার সাথে সরাসরি কথা বলতে কোন দালাল ধরতে হয় না মামলা করতে কাওকে টাকা দিতে হয়না।আমি জনগণের সেবক জনগণের টাকায় আমার বেতন হয়। সরকার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন জনগণের জানমাল রক্ষা করার আমি আমার জায়গা থেকে পুলিশি সকল সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া আমার কর্তব্য। তিনি আরো বলেন,জয়পুুরহাট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম স্যারের নির্দেশে এই অল্প কয়েক মাসেই আক্কেলপুর উপজেলায় সকল অপরাধ দমনের পাশাপাশি এই উপজেলাকে শতভাগ মাদক মুক্ত উপজেলা গড়তে আমার থানার সঙ্গীয় ফোর্সরা দিনরাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন মাদকের টাকা তো দূরের কথা আমি কোন ঘুষ দুর্নীতি দালালি ও অনিয়মকে প্রশ্রয় দেই না। মহান আল্লাহতালা যেন এমনভাবেই আমাকে দায়িত্ব পালন করার তৌফিক দান করেন। পরিশেষে তিনি বলেন আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা তথ্য দিয়ে যদি আমাকে সহযোগিতা করেন। তবে আক্কেলপুর থানায় কে শতভাগ মাদক ও অপরাধমুক্ত থানা গড়তে পুলিশের পক্ষে আরো সহজ হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের তথ্য ও সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন: জগন্নাথপুরে তালাক নামের প্রতারনার শিকার গৃহবধূ রওশনা


Notice: Undefined variable: sAddThis in /home/durjoyba/public_html/details.php on line 809