ধর্মপাশায় নারীকে মারধরের ঘটনার ১৩ দিন পর আদালতে মামলা
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় খোদেজা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীকে মারধরের ঘটনার ১৩ দিন পর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার পাইকুরাটি বাজারের বাসিন্দা আলী নূরের স্ত্রী ভুক্তভোগী খোদেজা খাতুন বাদি হয়ে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, পাইকুরাটি বাজার সংলগ্ন জিংলিগড়া গ্রামের মৃত আরজ আলীর ৩ ছেলে আলম মিয়া (৩৫),বাবুল মিয়া (৪০) আবু সাঈদ (৪৭) ও আলম মিয়ার স্ত্রী গজবা খাতুন (৩০)।
এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩ টার দিকে পাইকুরাটি বাজারের বাসিন্দা সাধনা বেগমের বসতঘরের সামনের রাস্তায় অভিযুক্তরা খোদেজা খাতুনকে মারধর করে আহত করার এ ঘটনাটি করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আলম মিয়া প্রতিনিয়তই বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করে সে নানান ধরনের অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকে। এমনকি সে প্রায়ই খোদেজা খাতুনের বসতঘরের আশপাশে মাদকের আসর বসিয়ে নানা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। খোদেজা খাতুন প্রায়ই আলম মিয়াকে এসব অসামাজিক কর্মকান্ড চালাতে বাধা দিয়ে আসছিলেন। তখন থেকেই আলম মিয়া খোদেজা খাতুনসহ তার পরিবারের লোকজনদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।
এ অবস্থায় ঘটনার দিন বিকেলে আলম মিয়া তার কয়েকজন সঙ্গীকে সাথে নিযে খোদেজা খাতুনের বসতঘরের পাশে বসে মাদক সেবন করছিল এবং অশ্লিল ভাষায় চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে। এসময় নিরুপায় হয়ে খোদেজা খাতুন সেখানে গিয়ে তাদেরকে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে এসে খোদেজা খাতুনকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আহত ওই নারীকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
এদিকে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য স্থানীয় গন্যমাণ্য ব্যক্তিরা অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা মীমাংসার বিষয়টিকে পাত্তা না দেওয়ায় অবশেষে নিরুপায় হয়ে খোদেজা খাতুন বাদি হয়ে ঘটনার ১৩ দিন পর তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন। বাদি পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কামাল বলেন, বিজ্ঞ আদালত বাদির অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা এফায়ার করে পাঠানোর জন্য ধর্মপাশা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে সদ্য যোগদানকৃত ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.এনামূল হকের ব্যবহৃত সরকারি নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কলটি না ধরায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: বারহাট্টায় নারী ,শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক ষ্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
হাফিজুর রহমান চয়ন