মোহনগঞ্জে আ.লীগ নেতাকে ২০ হাজার টাকা দিয়েও সরকারি ঘর মেলেনি দরিদ্র নাসিমার
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শাহীন আকন্দ (৪৮) নামে এক আ.লীগ নেতাকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও সরকারি ঘর পেলেন না নাসিমা নামে এক দরিদ্র নারী।
ভুক্তভোগী নাসিমা উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের রামজীবনপুর গ্রামের আলম মিয়া (৪৮) নামে এক দিনমজুরের স্ত্রী। অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা শাহীন আকন্দ একই ইউনিয়নের কেওয়ারদিঘী গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক।
তবে আ.লীগ নেতা শাহীন আকন্দকে টাকা দেওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ওই নারীর ভাগ্যে জুটেনি সরকারি ঘর। পরে ভুক্তভোগী ওই নারী সম্প্রতি ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়ার আশায় তিন বছর আগে আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন আকন্দকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দেন নাসিমা। আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় দ্রুত সময়ে ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। তবে টাকা নেওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ঘর আর পাওয়া হয়নি নাসিমার। কিন্তু ঘর না পেয়ে টাকা চাইতে গেলে নাসিমাকে উল্টো হুমকি ধমকি দেন আ.লীগ নেতা শাহীন। সরকার পতনের পর ভুক্তভোগী নাসিমা গত ৪ অক্টোবর টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাকে ফের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করার এক পর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করতে যান শাহীন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে শান্ত করেন। এ অবস্থায় অসহায় ওই নারী তার টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের ধারে ধারে ঘুরে এর সমাধান না পেয়ে অবশেষে তিনি গত ২৫ অক্টোবর শাহীনের বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন নাসিমা।
ভুক্তভোগী নাসিমা আক্তার জানান, আমি খুবই গরিব মানুষ। একটি ভাঙা ঘরে ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে পোলাপান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। শাহীন এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা পরিচয় দেয়। উপজেলার বড় বড় নেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক। আমাকে ঘর পাইয়ে দিবে বলে অফিস খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা দাবি করলে, আমি সুদে ২০ হাজার টাকা এনে তার হাতে তুলে দেই। ওই টাকার তিন বছরে সুদ বেড়ে অনেক গুণ হয়েছে। সুদের জের এখনও টেনে যাচ্ছি। কিন্তু তিন বছর পার হলেও আজও ঘর পেলাম না। পরে বাধ্য হয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি। অভিযোগের পর তিন হাজার টাকা দিয়েছে। বাকি টাকা না দিয়ে সে তালবাহানা করছে। এমনকি সে আমাকে উল্টো হুমকি ধমকিও দিচ্ছে।
অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন আকন্দ বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে এ বিষয়টি আজকেই থানার এসআই জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।
মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, ১০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন শাহীন। তবে এরমধ্যে ৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে বলেও জানিয়েছে। বাকি টাকা দিয়ে দেবে বললেও আজ-কাল করে সময় পার করছেন। আর দুই-একদিন দেখব টাকা ফেরত দেয় কিনা। যদি টাকা ফেরত না দেয় তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে র্যাবের অভিযানে ডাকাত সর্দার শিপন মিয়া গ্রেফতার
হাফিজুর রহমান চয়ন