বিপুল দেবনাথ
প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ,
৩০ এপ্রিল তোমাদের এসএসসি পরীক্ষা। তোমরা পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র হাতে পেলে রোল, রেজিস্ট্রেশন ও বিষয় কোড লেখার আগে উত্তরপত্রের প্রতিটি পাতা উল্টিয়ে দেখতে হবে ভেতরের পাতাগুলো ঠিক আছে কি-না! যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তবে কভার পৃষ্ঠার বা ও এমআর সিটের নির্দিষ্ট স্থানে রোল, রেজিস্ট্রেশন প্রভৃতি লিখে তা ভরাট করা উচিত। আর যদি ভেতরের কোনো পাতা ছেঁড়া বা নষ্ট থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শকের কাছে উত্তরপত্রটি বদল করে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষা বোর্ডে ও কেন্দ্রে উত্তরপত্রসমূহ বার বার যাচাই বাছাই করে দেখার পরেও নষ্ট উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীর হাতে পড়তে পারে। যদি উত্তরপত্রের পাতাগুলো উল্টিয়ে না দেখে রোল, রেজিস্ট্রেশন প্রভৃতি লিখে বৃত্ত ভরাট করা হয় এবং উত্তরপত্রে মার্জিন দিতে গিয়ে ত্রুটি তোমার নজরে আসে ‘তখন উত্তরপত্র পাল্টাতে সমস্যা দেখা না দিলেও মূল্যবান কিছু সময় যে নষ্ট হয়ে গেল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাছাড়া পরীক্ষার শুরুতে এমন ঘটনায় মনে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই উত্তরপত্র হাতে এলে সবার আগেই উত্তরপত্রটি একবার নিরীক্ষা করে দেখতে হবে।
উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠা বা ওএমআর সিটের তিনটি অংশ থাকে। কেবল প্রথম অংশটি পরীক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য এবং দ্বিতীয় অংশ পরীক্ষক/প্রধান পরীক্ষকের জন্য নির্দিষ্ট রয়েছে। তৃতীয় অংশটি উত্তরপত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে। পরীক্ষার্থীকে ওএমআর সিটের তার নির্দিষ্ট অংশের নির্দিষ্ট স্থানে রোল, রেজিস্ট্রেশন ও বিষয় কোড লিখে তৎসংলগ্ন নিচের সংখ্যাগুলো ভরাট করে দিতে হয়। ওএমআর সিটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশটি কোনোভাবেই পূরণ করা যাবে না এবং বৃত্ত ভরাটের ক্ষেত্রে অবশ্যই কালো রঙের কালির বল পয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে।
এবার কভার পৃষ্ঠার বৃত্ত ভরাটের কাজটি অতি সতর্কতার সাথে তোমাকে করতে হবে। যদি তারপরেও কোনো সংখ্যার বৃত্ত ভুল ভরাট হয়ে যায়, তবে সেক্ষেত্রে ভুল ভরাট হয়ে যাওয়া বৃত্তটি কোনোরূপ ঘষাঘষি না করে বা না কেটে পুনরায় সঠিক সংখ্যার বৃত্তটি ভরাট করে দিতে হবে। বৃত্ত ভরাটের পর কভার পৃষ্ঠার পরের পাতায় যেখানে পরীক্ষার সাল, বিষয়, বিষয় কোড ও তারিখ লেখার জায়গা রয়েছে সেগুলো লিখে ফেলা উচিত। এবার সম্পূর্ণ উত্তরপত্রটি স্কেল ও পেন্সিল/কলম দ্বারা মার্জিন দিয়ে নিতে হবে। মার্জিন যাতে আঁকা-বাঁকা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তোমার উত্তরপত্রের মার্জিন এক ইঞ্চির বেশি না হওয়া ভালো। আবার খুব ছোট বা অর্ধইঞ্চি মার্জিন দেওয়া ঠিক নয়। মার্জিনের জন্য লাল রং কালির কলম/ পেন্সিল ব্যতীত অন্য যে কোনো রং ব্যবহার করা যাবে। মনে রাখতে হবে, প্রশ্নপত্র তোমার হাতে আসার পূর্বেই এ কাজগুলো তোমাকে সম্পূর্ণরূপে শেষ করতে হবে। নতুবা উত্তর লেখার প্রকৃত সময় থেকে তোমার কিছুটা সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন নাম্বার লেখার জন্য নীল কালি ব্যবহার করা যায় এবং মার্জিনের জন্যও নীল বা সবুজ কালি ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে তোমার উত্তরপত্রের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। মাঝে মধ্যে ঘণ্টা বা সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হলে কিন্তু কক্ষ থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তাই এক ঘণ্টার মধ্যে যাতে বাথরুম ডেকে না বসে সে জন্য পূর্ব থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পরিক্ষার হলে যখন অতিরিক্ত উত্তরপত্রের প্রয়োজন পড়বে, তখন কমপক্ষে মূল উত্তরপত্রের একটা পৃষ্ঠা ফাঁকা থাকার পূর্বেই তুমি কক্ষ পরিদর্শককে অতিরিক্ত উত্তরপত্রের প্রয়োজনের কথাটা জানাতে হবে। এমন হতে পারে, ওই কক্ষে অতিরিক্ত উত্তরপত্র শেষ হয়ে গেছে এবং তা আবার কক্ষে পৌঁছতে দুই মিনিট সময় লেগে যেতে পারে। অথবা পরীক্ষার্থীর হাজিরা স্বাক্ষর গ্রহণে বা অন্য কোনো কাজ করে শেষ প্রান্তে কক্ষ পরিদর্শক নিমগ্ন আছেন। যদি মূল উত্তরপত্রের সম্পূর্ণ অংশ লিখে অতিরিক্ত উত্তরপত্র লাগে তাহলে ১/২ মিনিট সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষার হলে যারা আছেন ‘তারা কোনো না কোনো স্কুলের শিক্ষক। সুতরাং তাদের প্রতি অবশ্যই শিক্ষক সুলভ আচরণ করতে হবে। এবার অতিরিক্ত উত্তরপত্র হাতে পৌঁছালে পূর্বের নিয়মে মার্জিন দিয়ে এবং ওপরের বাম কর্নার ঘেঁষে ১ লিখে রাখা, এভাবে দ্বিতীয়বার প্রয়োজন হলে ২ ও তার পরেরটিতে ৩ এবং যতবার অতিরিক্ত উত্তরপত্র গ্রহণ হবে ওপরের কর্নারে নম্বর দিয়ে রাখা ভাল। যখন সময়ের শেষ প্রান্তে তোমার উত্তরপত্র সেলাই করার আবশ্যকতা দেখা দেবে; তখন অতিরিক্ত উত্তরপত্রের ক্রমিক সংখ্যাগুলো দ্রুত মিলিয়ে নিয়ে তোমার উত্তরপত্র সেলাই করতে হবে। এতে সময় নষ্ট হবে না এবং অতিরিক্ত উত্তরপত্রগুলো ওলট-পালট হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
উত্তর লেখার কাজ শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার জন্য বরাদ্দকৃত সময় হাতে থাকলে উত্তরপত্র জমা না দিয়ে বরং চূড়ান্ত ঘণ্টা পড়া অবধি আগাগোড়া উত্তরপত্রটি বার বার ভালোভাবে পড়া উচিত এবং কোনো ভুল নজরে আসলে তা সংশোধন করতে হবে।
আরও পড়ুন: আধুনিক কলুর বলদ